উত্তরবঙ্গের চা শিল্প পুনরুজ্জীবনের জন্য নতুন প্যাকেজ কেন্দ্রের?
এই সময় | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে নবজোয়ার আসতে শুরু করেছে৷ একদিকে যেমন বড় বড় শিল্পসংস্থা বাংলাকে ‘গন্তব্য’ হিসেবে বেছে নিচ্ছে, তেমনই রাজ্যের রুগ্ন শিল্পক্ষেত্রের পুনর্গঠনের দিকেও নজর দিচ্ছে বাংলার বিজেপি সরকার৷ দিল্লি সূত্রে খবর, রাজ্যের শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সাহায্যের অভাব হবে না৷ এই আবহেই পশ্চিমবঙ্গের চা শিল্পকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের ইতিবাচক ভাবনার আভাস মিলেছে।
তিন দশকে উত্তরবঙ্গের চা উত্পাদন কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ৷ নয়ের দশকে যেখানে গড়ে বার্ষিক ১৪.৪৯ মিলিয়ন কেজি চা উত্পন্ন হতো, সেখানে ২০২৫ সালে উত্পাদিত হয়েছে ৫.৬০ মিলিয়ন কেজি চা৷ ধুঁকতে থাকা চা শিল্পের সার্বিক অবক্ষয় ঠেকাতে এবার কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে গৃহীত হবে বিশেষ পরিকল্পনা, জানানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রক সূত্রে৷ সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন’ (আইটিএ) উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের দুর্দশা ঘোচাতে রাজ্য সরকারের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়ে প্রস্তাব পেশ করেছে৷ সূত্রের দাবি, উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে বার্ষিক ১১৩ কোটি টাকার প্যাকেজ–প্রস্তাব দিয়েছে আইটিএ৷ রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া এই প্রস্তাবের প্রতিলিপি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও এসে পৌঁছেছে৷ সূত্রের দাবি, এই প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে উত্তরবঙ্গের চা–শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্যাকেজের কথা ভাবছে অর্থ মন্ত্রক৷
চা বাগান পুনরুজ্জীবনের রূপরেখা স্থির করার আগে দার্জিলিং, তরাই এবং ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা বাগান পরিদর্শনে যেতে পারে কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের উচ্চপর্যায়ের দল৷ রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগেই করা হবে এই পরিদর্শন৷ সরকারি সূত্রের দাবি, এই প্রতিনিধি দলে থাকবেন শিল্প-বাণিজ্য, পর্যটন এবং অর্থ মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা৷ রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পরেই স্থির করা হতে পারে সফরসূচি৷ পরিদর্শন করে দিল্লিতে ফিরে শিল্প-বাণিজ্য, পর্যটন এবং অর্থ মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করবেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা৷ এই রিপোর্ট বিশ্লেষণের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হতে পারে উত্তরবঙ্গের চা বাগান পুনরুজ্জীবন প্যাকেজ। চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই এই কাজ শেষ করা হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রক সূত্রে খবর।