• সুদীপদের NCPI-এর মতো আরও ৬টি দলের হদিশ, গোত্রহীন হয়েও চাঁদা পেয়েছে ১৫০০ কোটি: রিপোর্ট
    এই সময় | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নির্বাচন কমিশনের খাতায় নথিভুক্ত। কিন্তু স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়। গত জুন মাসে সেই রকমই এক অখ্যাত দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া, সংক্ষেপে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের মতো তৃণমূল কংগ্রেস পরিত্যাগী লোকসভার ২০ জন সাংসদ। বিজেপিই কলকাঠি নেড়ে রাজ্যের আগের শাসকদলে ভাঙন ধরিয়েছে, এই অভিযোগ ঘিরে বিস্তর শোরগোলও পড়ে জাতীয় রাজনীতিতে। সেই সংক্রান্ত একটি মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সেই আবহে এনসিপিআই-এর মতোই নথিভুক্ত অথচ অস্বীকৃত আরও ৬টি রাজনৈতিক দলের হদিশ মিলল!

    একটি অনুসন্ধানমূলক অভিযান চালিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি হিন্দি জানিয়েছে, এই দলগুলির নাম— সত্যবাদী রক্ষক পার্টি, আম জনমত পার্টি, গরিব কল্যাণ পার্টি, স্বাধীনতা অভিব্যক্তি পার্টি, ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল এবং নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি। এগুলির প্রত্যেকটির সদর দপ্তর গুজরাটে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, পাঁচটি আহমেদাবাদে এবং একটি আনন্দে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য ঘেঁটে বিবিসি জানিয়েছে, ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে এই ৬টি রাজনৈতিক দল সব মিলিয়ে ১৫০০ কোটি টাকারও বেশি অনুদান পেয়েছে। যা দেশের প্রথম সারির বহু রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত অনুদানের অঙ্ক থেকে অনেকটাই বেশি। তা সত্ত্বেও রাজ্য বা জাতীয় রাজনীতিতে তাদের উপস্থিতি নামমাত্রই। গত লোকসভা ভোটে এই ৬টি দল থেকে সব মিলিয়ে ১৫ জন প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন।

    বিবিসি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি চাঁদা পেয়েছে আম জনতা পার্টি। প্রায় ৬২০ কোটি টাকা। সত্যবাদী রক্ষত পার্টির ঝুলিতে গিয়েছে ৩৩০ কোটি টাকা। ২০০ কোটি টাকা পেয়েছে নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি। আর গরিব কল্যাণ পার্টির কপালে জুটেছে ১৩৮ কোটি টাকা!

    কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, আয়কর আইন মেনে চাঁদা নিতে পারে যে কোনও রাজনৈতিক দলই। অনুদানদাতারও এতে আয়করে ছাড় পান। তবে নথিভুক্ত রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের অডিট বাধ্যতামূলক। কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা ২০ হাজার টাকার বেশি চাঁদা দিলে তার সমস্ত তথ্যই কমিশনের কাছে জমা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে গুজরাটের এই ৬টি রাজনৈতিক দল কোনও অনিয়ম করেছে কি না, তা নিয়ে অবশ্য কিছু বলা হয়নি বিবিসি-র রিপোর্টে।

    তবে সংবাদমাধ্যমে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের একাংশের মত, এই ধরনের প্রক্রিয়ায় সাধারণত অনুদানদাতারা করছাড়ের সুবিধা পেতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে অনুদান দেন। পরে সেই সব রাজনৈতিক দল ‘সার্ভিস চার্জ’টুকু রেখে দিয়ে বাকি টাকা আবার দাতাদের ফেরতও দিয়ে দেয়। এ রকমও অভিযোগ রয়েছে। তবে সত্যবাদী রক্ষক পার্টির সভাপতি স্বাতী বেন-এর বক্তব্য, ‘আমাদের দল চাঁদার টাকা সমাজসেবায় খরচ করে। তবে এই বিপুল খরচের কোনও লিখিত হিসেব বা রেকর্ড নেই। আমাদের দল থেকে লোকসভা নির্বাচনে এক জন প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁর প্রচারে আট কোটি টাকা খরচ হয়েছিল।’

  • Link to this news (এই সময়)