• নেপালের দুর্যোগে নিখোঁজ চন্দননগরের শিপ্রা, মায়ের খোঁজে DNA নমুনা দিলেন দুই ছেলে
    এই সময় | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সব ঠিক থাকলে রবিবারই নেপাল থেকে বাড়ি ফিরতেন চন্দননগরের হরিদ্রাডাঙার ষাটোর্ধ্ব শিপ্রা রায় পাটারি। এর পরেই ছেলের কাছে আমেরিকা যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। আপাতত নেপালের দুর্যোগে নিখোঁজ তিনি। আমেরিকায় যে ছেলের কাছে যাওয়ার কথা ছিল, তিনি এসেছেন বাড়িতে। মায়ের খোঁজে DNA-র নমুনা দিয়ে এসেছেন নেপালে গিয়ে।

    চন্দননগরের শিপ্রা রায় পাটারি (news in bengali) ও রবীন্দ্রনাথ পাটারির। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই স্কুলে পড়াতেন। অবসর নিয়েছেন। মানসরোবরে যাওয়ার কথা ছিল এই দম্পতির। রবীন্দ্রনাথের ভাই বাবলু পাটারি বলেন, ‘মানসরোবরে দাদারও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বয়সের কারণে ছাড়পত্র পায়নি। বৌদি বলেছিল তা হলে আর যাবে না। দাদা-ই বলল, ঘুরে আসতে। ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যান বৌদি। নেপাল থেকে ফিরে বড় ছেলে নিলয়ের কাছে আমেরিকায় যাওয়ার কথা ছিল দু’জনের। কিন্তু ভাইপোরা তো নেপালে গিয়ে DNA-র নমুনা দিয়েছে। সেখান থেকে আইডি নম্বর, ফোন নম্বর দিয়েছে। বলেছে, DNA মিলে গেলে যোগাযোগ করবে। শুনলাম যা, পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর।’

    শিপ্রা-রবীন্দ্রনাথের দুই ছেলে নিলয় ও অনীক। নিলয় আমেরিকায় থাকেন। ২৬ অগস্ট দুর্যোগের খবরের পরে তড়িঘড়ি দেশে ফিরেছেন। ভাই অনীককে নিয়ে ২ সেপ্টেম্বর নেপালেও যান। গিয়ে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার পরে খোঁজ শুরু করেন হাসপাতালগুলিতে। বাবলু জানান, শুক্রবার রাতে দাদার ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নেপালের যে ছবি তাঁরা দেখেছেন, আঁতকে উঠেছেন। গ্রাম, বাড়ি, পথঘাট ধুয়ে মুছে সাফ।

    বাবলু জানান, দাদা-বৌদির বেড়ানো নেশা। চাকরি জীবনেও বহু জায়গায় ঘুরেছেন। অবসরের পরে তা আরও বাড়ে। বছরে ২-৩টে ট্যুর করবেনই। কিন্তু নেপালে গিয়ে যে এমন বিপদে পড়বেন, তা তাঁরা কস্মিনকালেও ভাবতে পারেননি।

  • Link to this news (এই সময়)