ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত মোবাইল ব্যান? বড় ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু
আজ তক | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে কি দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের মোবাইলের ব্যবহার বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে রাজ্য BJP সরকার? শিক্ষক দিবসের দিন, শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে বড় ইঙ্গিত মিলল। এদিন তাঁর ছাত্রাবস্থায় বক্তৃতা, ডিবেটে অংশগ্রহণ করার কথা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলেন তিনি। সে সময়েই বলেন, 'মোবাইল ফোনের ভয়ঙ্কর কু-প্রভাব রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের উপর। গুজরাতে ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এ সব সিদ্ধান্ত নিলে আমার ভোট কমে যেতে পারে।'
বন্ধ হবে ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার?
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'গুজরাতে দেখুন, প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোনে হাত দিতে দেওয়া হয় না। ভয়ঙ্কর ক্ষতি করছে মোবাইল ফোন। রাত দেড়টা-দু'টোর আগে বাচ্চারা ঘুমোতে যায় না, সারাক্ষণ মোবাইল ঘাঁটছে। বাবা-মা শুয়ে পড়েছে, আড়াল হতেই মোবাইল ঘাঁটা আরম্ভ করে দিচ্ছে।' তাঁর কথায়, 'এই সমস্ত সংস্কার যদি না করেন, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষক দিবসের কোনও মানেই থাকবে না।' এই মর্মেই তিনি বড়সড় ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, 'খুব কঠিন সিদ্ধান্ত, ভোট কমে যাবে আমার।'
গুজরাতে ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল নিষিদ্ধ?
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখা এবং স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে গুজরাত সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন গুজরাটের শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব থেকে দূরে রাখা এবং স্মার্টফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য একটি অ্যাডভাইজরি বা নির্দেশিকা তৈরি করা হবে। যদিও সেটি এখনও বাস্তবায়তি হয়নি।
শিশুদের উপর স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে মতামত জানতে মনোবিদ এবং চিলড্রেনস ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করে গুজরাত সরকার। পরবর্তীতে চিলড্রেনস রিসার্চ ইউনিভার্সিটি শিশুদের মধ্যে স্মার্টফোনে আসক্তির শিক্ষাগত, মানসিক এবং সামাজিক প্রভাব নিয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। কয়েক মাস আগেই সেই সমীক্ষার রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সেই অ্যাডভাইজরি চূড়ান্ত করা হয়নি।
তবে বর্তমানে গুজরাটে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের স্কুলে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। কলেজ পড়ুয়ারা মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারেন, তবে ক্লাস চলাকালীন তা ব্যবহার করা যায় না। ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষকদেরও মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ।
তবে এই ধরনের বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাবিদদের মতে, শিশুদের মধ্যে স্মার্টফোনের উপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনলাইন শিক্ষার দিকে চলে যাওয়ার পর থেকেই এই নির্ভরতা আরও বেড়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এমনকী প্রি-প্রাইমারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের মধ্যেও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তির ঘটনা সামনে আসছে।
শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর টিপস প্রধানমন্ত্রীর
পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে স্ক্রিন টাইম। একটা বড় অংশের পড়ুয়া মোবাইলে রিল এবং গেমসে ডুবে। মোবাইলেই ঢুকে যাচ্ছে শৈশব। তাই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ, শিশুদের ডিজিটাল ডিভাইসে বেশি সময় কাটানোর প্রবণতা কমাতে হবে। স্ক্রিন টাইম কমাতে খেলাধুলা, শারীরিক কসরত এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে ছোটদের উৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই স্ক্রিন টাইমের নেশা কমবে বলে মনে করেন তিনি।