মালদহ মেডিক্যাল কলেজের সুপারকে সরিয়ে দিল স্বাস্থ্যভবন, চলছে শিশুমৃত্যুর তদন্ত
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল রাতারাতি আতঙ্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কারণ সেখানে একমাসে বিপুল পরিমাণ শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসার গাফিলতি থেকে শুরু করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠতে শুরু করে। এই নিয়ে তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্যভবন। কোনও গাফিলতি রেয়াত করা হবে না নীতি নিয়ে চলা হচ্ছে। কারণ মালদহ জুড়ে মায়েদের হাহাকার, কান্না নেমে এসেছে। যা নিয়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাধারণ মানুষ যেতে ভয় পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে এবার মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার তথা এমএসভিপি’কে সরিয়ে দিল স্বাস্থ্যভবন।
মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগস্ট মাসে ৮৯ শিশুর মৃত্যু নিয়ে জোরদার চর্চা শুরু হয়েছে। এখন জেলাজুড়ে সফর করছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। একাধিক হাসপাতালের পরিবেশ থেকে পরিকাঠামো সবকিছু দেখে উষ্মাপ্রকাশ করেছেন তিনি। তারপরই দেখা গেল, মালদহ মেডিক্যাল কলেজে একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্যদপ্তর। বিশেষজ্ঞ দলের রিপোর্ট মেলার পরই সরিয়ে দেওয়া হল হাসপাতালের সুপার তথা এমএসভিপি প্রসেনজিৎ বরকে। তিনি কি একাই দায়ী? নাকি আরও অনেকে জড়িত আছেন তার তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। প্রত্যেকটি শিশুর মৃত্যুর কারণ নিয়ে পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এই মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আগস্ট মাসে একদিন ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। তারপর সেই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করে শিশুমৃত্যু ঠেকানো উচিত ছিল। সেখানে দেখা যায়, তিন সপ্তাহের মধ্যে ওই হাসপাতালেই ৬০টি জনের বেশি শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এমনকী সেই ধারা অব্যাহত থাকায় সংখ্যা পৌঁছে যায় ৮৯ জনে। সুতরাং শিশুমৃত্যু ঠেকানো নিয়ে যে পদক্ষেপ করা হয়নি এমনই মনে করা হচ্ছে। একাধিক কারণ দেখানো হলেও তাতে সন্তুষ্ট হয়নি স্বাস্থ্যভবন। সুতরাং হাসপাতাল সুপারকে সরিয়ে দেওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। এই আবহে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল পাঠায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
তাছাড়া এই বিশেষজ্ঞ দল সেখানে গিয়ে সবকিছু খতিয়ে দেখেন। তারপর নিজেদের দেখা এবং হাতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট পেশ করেন স্বাস্থ্যভবনে। বিশেষজ্ঞ দলের চেয়ারম্যান চিকিৎসক প্রলয় আচার্য ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, নতুন করে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে তার ব্যবস্থা করা হবে। শিশুমৃত্যুর নেপথ্যে নানা কারণ উঠে এসেছে। অপুষ্টি থেকে শুরু করে জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যা, জন্ডিস এবং কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। যদিও সব মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং রিপোর্ট বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।