• ভিডিও ভাইরাল হতেই উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার ‘হিন্দু বীর’ স্বতন্ত্র, এসসি-এসটি ধারায় মামলা
    প্রতিদিন | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭২ ঘণ্টার ‘সময়সীমা’ দিয়েছিল পুলিশ। আশ্বাস দিয়েছিল, এর মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হবে সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তথা স্বঘোষিত গো-রক্ষক স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে (Swatantra Bharadwaj)। মেয়াদ শেষের অনেক আগেই সেটা করে ফেলল দিল্লি পুলিশ। বুলন্দশহর থেকে স্বতন্ত্রকে দিল্লি পুলিশের একটি দল পাকড়াও করেছে বলেই খবর। বর্তমানে সে পুলিশি হেফাজতেই রয়েছে। স্বঘোষিত ওই ‘হিন্দু বীরে’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানের দলও।

    অভিযোগ জুলাই মাসে নিট বিক্ষোভের সময় দিল্লির যন্তর মন্তরে এক বিক্ষোভকারী নিশু আজাদের বাবা, সঞ্জয় কুমারের উপর হামলা চালান তিনি। সেই সময় এই নিয়ে অভিযোগ উঠলেও পদক্ষেপ হয়নি। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তরফে বার বার অভিযুক্ত হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবি করা হচ্ছিল। সেই দাবিই চরমে ওঠে পরে একটি পডকাস্টে স্বতন্ত্র সেই হামলার কথা নিজেই স্বীকার করে নেওয়ায়। পডকাস্টে তিনি কবুল করে নেন, নিশু আজাদের বাবাকে তিনিই মেরেছেন। আরও বলেন, এর পরও তাঁর কিছুই হয়নি। দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্বতন্ত্র বলেন, “কপিল মিশ্র আমার বড় ভাই, চিরাগ পাসওয়ান আমার বড় ভাই। নরেন্দ্র মোদিও আমার বড় ভাই।” এই ভিডিও সামনে আসতেই ধুন্ধুমার বেধে যায়। সিজেপি-র নেতারা স্বতন্ত্রকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন। রাহুল গান্ধী আসরে নামেন। তিনিও টুইট করে স্বতন্ত্রর গ্রেপ্তারির দাবি জানান।

    শুক্রবার সকালে তাঁরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানাও ঘেরাও করেন। ছিলেন আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসের মতো নেতারা। এছাড়াও থানায় যান দুই সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ এবং পাপ্পু যাদবও। তাঁরাও স্বতন্ত্রর গ্রেপ্তারির দাবি তোলেন। এরই মধ্যে স্বতন্ত্র ফের দাবি করেন, তাঁকে যদি ঘিরে ধরা হয়, তা হলে আবার মারবেন। হাতের বালা তুলে দেখিয়ে বলেন, ‘এর ক্ষমতা দেখেছ?’ এই নিয়েই নিশু আজাদের বাবাকে মেরেছেন বলেও আস্ফালন করেন স্বতন্ত্র।

    এদিকে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই তাঁকে গ্রেপ্তারির দাবি জোরালো হয়। তখন গা-ঢাকা দেন তিনি। বাইকে চড়ে দিল্লি থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ তখন জানায়, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বতন্ত্রকে গ্রেপ্তার করা হবে। এমনকী, যে পডকাস্ট, যে দাবি ঘিরে এত বিতর্ক, সেটিও তদন্তের আওতায় আসবে। শেষ পর্যন্ত, পুলিশ স্বতন্ত্রকে বুলন্দশহর থেকে পাকড়াও করেছে বলেই খবর। তাঁর বিরুদ্ধে চেষ্টা, পকসো এবং তফসিলি জাতি-উপজাতি আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। খুনের এদিকে স্বতন্ত্র আটক হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন চিরাগ পাসওয়ানও। তাঁর দাবি, “ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ নেই। আমি চিনি না। ওর বিরুদ্ধে আমার নামের অপব্যবহার করার জন্য মামলা হওয়া উচিত।” এরপরই চিরাগের দল স্বতন্ত্রর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)