বিস্তর বিতর্কের পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের স্মৃতিসৌধ (Manmohan Singh Memorial) তৈরির উদ্যোগ নিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। দিল্লির রাজঘাট এলাকাতেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিসৌধ তৈরি করবে সরকার। ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় গণপূর্ত দপ্তর অর্থাৎ সিপিডব্লিউডি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে।
২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রয়াত হন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন। কিন্তু দস্তুর মেনে প্রথমে তাঁর স্মৃতিসৌধ গড়ার কথা ঘোষণা করেনি মোদি সরকার। তাতে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে চিঠি লিখে দাবি করেন, রাজঘাটের আশেপাশে কোথাও জমি নির্দিষ্ট করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সমাধিস্থল তৈরি হোক। সেই দাবি মেনে নেয় অমিত শাহর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কিন্তু যেখানে স্মৃতিসৌধ তৈরি হবে সেখানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। শেষকৃত্য হয়েছে নিগমবোধ ঘাটে। সেটা নিয়েও সেসময় ক্ষোভপ্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী।
যদিও সেই বিতর্কের মধ্যেই জমি খোঁজার কাজ শুরু হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে যমুনা নদীর ধারে রাজঘাট, রাষ্ট্রীয় স্মৃতি স্থল ও কিসান ঘাটে এক থেকে দেড় একরের মতো তিনটি জমি চিহ্নিত করা হয়। শেষমেশ রাজঘাটের কাছে যেখানে জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, সঞ্জয় গান্ধীর স্মৃতিসৌধ রয়েছে তার কাছের একটি জমিতে স্মৃতিসৌধ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। জমি চিহ্নিত করার পরে এ ব্যাপারে মনমোহনের পরিবারের মত চাওয়া হয়। তিনটি জমির মধ্যে রাজঘাটের ধারের জমিটিকেই বেছে নেয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পরিবার। মনমোহনের স্মৃতিসৌধের পরিকল্পনার ভার দেওয়া হয়েছে দিল্লির আর্ট কাউন্সিলকে। ওই সংস্থা সিপিডব্লিউডি’কে বলেছে স্মৃতিসৌধ নির্মাণে কতগুলি বিশেষ দিকে নজর রাখতে হবে। রাজঘাট এলাকায় অবস্থিত বাকি স্মৃতিসৌধগুলির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মনমোহন সিংয়ের স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করতে হবে। ওই এলাকার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন কোনও নির্মাণ সেখানে করা যাবে না। বরাদ্দ জমির সমস্ত গাছ রক্ষা করেই স্মৃতিসৌধটি তৈরি করতে হবে। গত ২৫ আগস্ট প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিসৌধের পরিকল্পনায় ছাড় দিয়েছে সিপিডব্লিউডি। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে খবর।