বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে মজুত মাত্র ৯ দিনের কয়লা! নামতে পারে অন্ধকার?
প্রতিদিন | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চার বছর বাদে ফের কি বেনজির বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়তে পারে দেশ? যার মূল কারণ, কয়লা সরবরাহে সমস্যা ও চাহিদা বৃদ্ধি। এই মুহূর্তে দেশের বেশিরভাগ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মজুত কয়লার পরিমাণটা সরকার নির্ধারিত সীমার অর্ধেকেরও কম। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ২ সেপ্টেম্বরের হিসাবে দেশের ৫০টি বৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্ধারিত সীমার মাত্র ৪৮ শতাংশ কয়লা মজুত রয়েছে। যাতে বড়জোর ৯ দিন কাজ চালানো সম্ভব।
ওই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার সংকটের কারণ দ্বিমুখী। এক, আগস্টে বেনজির গরমের জেরে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি। সেপ্টেম্বরে উৎসবের মরশুমে সেই চাহিদা আরও বাড়বে। দুই, বর্ষার মরশুমে কয়লা উত্তোলন এবং সরবরাহে সমস্যা। যার জেরে দেশের সবচেয়ে বড় ৫০টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার সংকট দেখা গিয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে মাত্র ২৮.২ মিলিয়ন টন কয়লা এই মুহূর্তে মজুত রয়েছে। অথচ সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, সেটা থাকার কথা ৫৮.৭ শতাংশ। এই পরিমাণ কয়লায় মাত্র ৯ দিন চলতে পারে। যা রীতিমতো উদ্বেগজনক।
দ্রুত সরবরাহ না বাড়ালে দেশে বড় সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। শেষবার ২০২২ সালে তুলনায় বিদ্যুতের যোগান কমে গিয়েছিল। সেপ্টেম্বরে উৎসবের মরশুমে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ফের সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যার জেরে দেশজুড়ে অন্ধকার নামার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে মোট জ্বালানির ৭০ শতাংশই আসে কয়লা থেকে। ফলে কয়লার সরবরাহ বজায় রাখাটা জরুরি।
যদিও কয়লা মন্ত্রক এখনই বড়সড় সংকটের কথা মানতে নারাজ। মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা বলছেন, সব গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেই সরবরাহের উপর নজর রাখা হচ্ছে। আন্তঃ মন্ত্রক বিশেষজ্ঞ দল পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। দরকারে কয়লা আমদানি বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক কেন্দ্র।