মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট। যার জেরে কার্যত গোটা বিশ্বেই অর্থনৈতিক অস্থিরতা। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারেও কিছুটা টান পড়েছিল। সেই সংকট কাটাতে একপ্রকার উদারহস্ত হয়ে এগিয়ে এলেন প্রবাসী ভারতীয়রা। তাঁদের টাকাতেই ভরে উঠল দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার। দু’মাসের মধ্যে প্রবাসী ভারতীয়রা ১২,৭০০ কোটি ডলার তুলে দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভাণ্ডারে।
আসলে বিদেশি মুদ্রার সংকট কাটাতে গত ৮ জুন একটি বিশেষ প্রকল্প ঘোষণা করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ফরেন কারেন্সি নন-রেসিডেন্ট (ব্যাঙ্ক) ডিপোজিট নামের ওই প্রকল্পে বিদেশি নাগরিকদের বিদেশি মুদ্রাতেই একপ্রকার ফিক্সড ডিপোজিট করার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে বিদেশি মুদ্রা জমা করলে সেই বিদেশি মুদ্রাতেই উচ্চ সুদ বা রিটার্ন পাবেন প্রবাসী ভারতীয় গ্রাহক। এছাড়াও বিদেশে যে সব ভারতীয় সংস্থা বিনিয়োগ করছে, সেসব সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে বিদেশি মুদ্রাতেই ঋণ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, বাহ্যিক বাণিজ্যিক ঋণও ডলারে নেওয়ার সুবিধা চালু করে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। কেন্দ্র ওই প্রকল্প চালুর কারণ হিসাবে জানায়, বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারের জন্য ‘বাফার টাইম’ অর্থাৎ অন্তর্বর্তী কিছুটা সময় চেয়ে নেওয়া।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই প্রকল্প চালু করতেই অভাবনীয় সাড়া পেয়ে যায়। মাত্র দু’মাসে এই প্রকল্পে ১৩,৬০০ কোটি ডলার জমা পড়ে যায়। এর ৯৩ শতাংশই প্রবাসী ভারতীয়দের আমানত। টাকার অঙ্কে সেটা ১২,৭০০ কোটি ডলার। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই প্রকল্প ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালানোর কথা ছিল। কিন্তু প্রচুর পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা জমা পড়ে যাওয়ায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সেটা বন্ধ করে দিয়েছে আগস্ট মাসের শেষেই। আসলে প্রবাসীদের যে বিপুল সাড়া দেবেন সেটা শুরুতে বোঝা যায়নি।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রবাসীদের ওই বিপুল বিনিয়োগের ফলে বিশ্বের বাজারে খানিকটা গুরুত্ব বেড়েছে টাকার। সরকার বলছে, দেশের অর্থনীতির উপর প্রবাসীরা যে এখনও আস্থা রাখছে, সেটা তারই প্রমাণ। এই ধরনের প্রকল্প যে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক প্রথমবার করছে তেমন নয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ২০১৩ সালেও একই ধরনের একটি প্রকল্প চালু করেছিল। সেসময় ৩ মাসে ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার উঠেছিল।