• খড়-মাটির পর চরমে পদ্ম সংকট! পুজোর উপাচারের জোগাড়ে চিন্তায় আয়োজকরা
    প্রতিদিন | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দুর্গাপুজোর উপাচারগুলি মধ্যে ১০৮ পদ্ম অন্যতম। তা ছাড়া দুর্গাপুজোর কথা ভাবাই যায় না। অথচ ঠিক পুজোর আগে সেই পদ্মেরই সংকট। তার ফলে পুজোর গুরুত্বপূর্ণ উপাচার জোগাড়ে কালঘাম ছুটতে পারে আয়োজকদের।

    পূর্ব মেদিনীপুরে প্রচুর সংখ্যক পদ্ম চাষ হয়। রাজ্যের নানা প্রান্তের ফুলবাজারে পদ্ম পৌঁছয়। বিদেশেও যায় পূর্ব মেদিনীপুরের চাষ করা ফুল। পুজোর মুখে তাই ফুলচাষি থেকে ব্যবসায়ী সকলেই যেন শ্বাস নেওয়ার সময় পান না। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে হিমঘরে চাষিরা ফুল সংরক্ষণ করে রাখেন। তারপর শুরু হয় ফুল রাজ্যের বাজারে জোগান কিংবা বিদেশে রপ্তানির কাজ। চলতি বছর ছবিটা একেবারে অন্যরকম। প্রবল বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। জলের নিচে তলিয়ে গিয়েছে মাঠ। তাই এবার আর সেভাবে পদ্মচাষ সম্ভব হয়নি। আবার ফুটে যাওয়া ফুলেরও গুণমান নষ্ট হয়েছে।

    তার ফলে ফুলের জোগানে ইতিমধ্যেই আকাল দেখা গিয়েছে। অন্যান্য বছর দুর্গাপুজোর অনেক আগে পদ্মের জন্য বায়না নেন কৃষকরা। তবে এবার আর বায়না নিচ্ছেন না তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে বাংলার ফুলবাজারে ওড়িশার পদ্মফুল এসেছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। তার ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে দাম। পুজোর সময় পদ্মের চাহিদা আরও কয়েকগুণ বাড়বে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সে সময় কীভাবে পদ্ম পাওয়া যাবে, তা নিয়ে চিন্তিত পুজো উদ্যোক্তারা।

    বলে রাখা ভালো, পদ্মের মতো মাটি এবং খড়েরও আকাল দেখা গিয়েছে। সেক্ষেত্রেও ‘ভিলেন’ সেই বৃষ্টি। তার ফলে মজুত খড় ভিজে গিয়েছে। খড়েরও তাই আকাল দেখা গিয়েছে। দামও যেন আকাশছোঁয়া। এক মণ খড় আগে বিক্রি হত ৭০০-৮০০ টাকায়। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল এক হাজার টাকা। বৃষ্টির ফলে আরও বেড়ে খড়ের দাম হয়েছে প্রায় ৪-৫ হাজার টাকা। তাই শুধু দুর্গা নয়, বিশ্বকর্মা-সহ অন্যান্য দেবদেবী গড়তেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)