লক্ষ্য ২০০ কোটি ভিউ, বিদেশে বাংলার দুর্গাপুজোর প্রচারে ইনফ্লুয়েন্সর নিয়োগ করবে রাজ্য, শর্ত কী?
প্রতিদিন | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলার দুর্গাপুজো শুধু উমা আরাধনা নয়। এ যেন এক অন্যরকম আবেগ। বিদেশের মাটিতেও বাংলার দুর্গাপুজো নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই। আর সেই কৌতূহলকে হাতিয়ার করে এবার দুর্গাপুজোকে বিশ্বের অন্যতম সাংস্কৃতিক পর্যটন ব্র্যান্ড হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টায় রাজ্য সরকার। আর তার প্রচারে কমপক্ষে ২ হাজার ৬০০ জন ইনফ্লুয়েন্সর নিয়োগের ভাবনা রাজ্যের। তবে তাঁদের ফলোয়ার কিংবা সাবস্ক্রাইবার ন্যূনতম ১০ লক্ষ হতেই হবে।
‘বিশ্বজুড়ে বাঙালির আবেগ – দুর্গাপুজো গ্লোবাল কানেক্ট ২০২৬’ প্রচার কর্মসূচি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রচার কর্মসূচিতে বাংলার পুজো সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য তুলে ধরা হবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার থেকে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা কিংবা লন্ডনের পিকাডিলি লাইটস থেকে সিডনি ও জাপানের বিমানবন্দরে বসেই আপনি স্বাদ পেতে পারেন বাংলার পুজোর। সোশাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে এমন ভাবনাচিন্তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ রাজ্য পর্যটন দপ্তরের। প্রতিমা নির্মাণ, শিল্পী, থিম থেকে আলোকসজ্জা কিংবা খাবারদাবার, বাংলার পুজোর ফ্যাশন থেকে বঙ্গবাসীর আবেগ সবই বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্তত ১০টি দেশের ২৫টি বাঙালি সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার ভাবনাচিন্তা করা হয়েছে। যাতে ভাষাগত কোনও সমস্যা না হয় সেক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের জন্য বিজ্ঞাপন, ভিডিও আলাদা আলাদা করে তৈরি করা হবে।
দুর্গাপুজোর প্রচারে যাতে কোনও সমস্যা না হয় তাই পেশাদার সংস্থা নিয়োগ করার কথাও হয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল প্রচারের জন্য ২ হাজার ৬০০ জন ইনফ্লুয়েন্সর এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটার নিয়োগ করার কথাও ভাবছে পর্যটন দপ্তর। তার মধ্যে ভ্রমণ, পর্যটন, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য নিয়ে ভ্লগিংয়ে যুক্ত ৬০ শতাংশ ইনফ্লুয়েন্সার নিয়োগ করা হবে। আর বাকি ৪০ শতাংশ খাবার, শিল্প, ফ্যাশন, লাইফস্টাইল এবং ফটোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত ইনফ্লুয়েন্সর রাখা হবে। ভিউ এবং রিচের উপর ভিত্তি করে ইনফ্লুয়েন্সার নির্বাচন করা হবে। ইনফ্লুয়েন্সরদের কমপক্ষে ১০ লক্ষ ফলোয়ার বা সাবস্ক্রাইবার থাকতেই হবে। প্রবাসী বাঙালি ইনফ্লুয়েন্সররা এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। ডিজিটাল ও সোশাল মিডিয়া মিলিয়ে যাতে ২০০ কোটির ভিউ ও ইমপ্রেশন হয়, সেটাই লক্ষ্য রাজ্যের। ইতিমধ্যে রাজ্যের পর্যটন দপ্তরের তরফে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল’ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলার দুর্গাপুজোকে আগেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। পালাবদলের বাংলায় এবার বাঙালির প্রাণের উৎসব যে প্রকৃত অর্থেই আন্তর্জাতিক হয়ে উঠতে চলেছে, তা যেন পর্যটন দপ্তরের ভাবনাচিন্তাতেই স্পষ্ট।