• ‘৫ নম্বরের বেশি মৌখিকে নয়’, তৃণমূলকে দুষে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
    প্রতিদিন | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • রাজ্যের ‘ভঙ্গুর’ শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে নতুন বিজেপি সরকার। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে ফের দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে আনতে বদ্ধপরিকর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে একাধিক বড় বার্তা দিলেন তিনি। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের আশ্বাসও দিলেন শুভেন্দু। পাশাপাশি এদিন আরও একবার রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে দুষলেন।

    তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে শিক্ষক নিয়োগ-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরিও বাতিল হয়ে গিয়েছিল সুপ্রিম নির্দেশে। বিজেপির আমলে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তৃণমূল আমলে এসএসসি-তে মৌখিক পরীক্ষাতেও বেশি নম্বর রাখা হয়েছিল। কেন বেশি নম্বর রাখা হয়েছিল মৌখিকে? কারচুপির জন্য? সেই প্রশ্ন এদিন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “এসএসসিকে বলেছি, ৫ নম্বরের বেশি মৌখিকে নয়।” তৃণমূল আমলে জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করা হয়নি রাজ্যে। খেলা-মেলা, ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা দিয়েছে বিগত সরকার। অথচ, শিক্ষাক্ষেত্রে ৩ বছর কম্পোজিট গ্র্যান্ট আটকে রাখা হয়েছিল। সেই অভিযোগও করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃণমূল আমলে শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেবাসেও বদল করেছিল তৃণমূল সরকার। ‘সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের’ কথা সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার স্কুলের সিলেবাসেও বড়সড় বদল আনছে। প্রণবানন্দ মহারাজ, স্বাধীনতা আন্দোলনে মাতঙ্গিনী হাজরার বীরত্বের তেমন উল্লেখ ছিল না। সেই অভিযোগ ফের করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন শুভেন্দুর প্রশ্ন, “কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি, পরবর্তী প্রজন্মকে জানাবেন না?” তাঁর কথায়, “টাটাকে তাড়ানো নিয়ে এক পাতা লেখা রয়েছে। কিন্তু স্বামী প্রণবানন্দকে নিয়ে এক লাইনও নেই।” শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। শিশুমনে বিভাজনের বীজ পোঁতা যাবে না। সেই কথাও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। 

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “আমাদের এখানে এনসিসি তুলে দেওয়া হল। জয় হিন্দ বাহিনী তৈরি করা হল। ভীষণ ক্ষতি। এনসিসি-কে ফিরিয়ে আনা উচিত। আমরা খেলাধুলোর প্রতি নজর দিইনি।” শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষক নিয়োগ করে দেব, নিশ্চিন্তে থাকুন। সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের নির্দেশ মাথায় রেখেই শিক্ষক নিয়োগ হবে। কোনও অন্যায় হবে না।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)