পুজো মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় সামাল কীভাবে? থানাগুলিকে স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের
প্রতিদিন | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পুজোয় যাতে কোনও মণ্ডপেই অতিরিক্ত ভিড় না হয় ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সেদিকে এবার নজর দিতে হবে। এজন্য প্রত্যেক থানার ওসিকে নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রত্যেক থানার ওসি ও লালবাজারের পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বৈঠক করেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, পুজোর মণ্ডপ তৈরির সময় থেকেই থানাগুলিকে থিম জানতে বলা হয়।
এদিন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ, মণ্ডপগুলি যাতে এমনভাবে তৈরি না হয়, যাতে মণ্ডপের ভিতরে একসঙ্গে অতিরিক্ত দর্শনার্থী থাকেন। প্রত্যেক মণ্ডপের প্রবেশপথ ও বের হওয়ার পথ আলাদা থাকবে। প্রবেশপথ দিয়ে দর্শনার্থীরা ভিতরে ঢুকে যাতে প্রতিমা দর্শন করে তাড়াতাড়ি অন্য পথ দিয়ে বেরিয়ে আসেন, সেদিকে নজর দিতে হবে পুলিশকে। মণ্ডপের ভিতর একসঙ্গে এক সময় বেশি সংখ্যক দর্শনার্থী থাকবেন না।
অনেক সময়ই দেখা যায়, মণ্ডপের ভিতর দর্শনার্থীরা সেলফি তুলতে ব্যস্ত থাকেন। কেউ বা ছবি তোলার জন্য অনেকটা সময় নিয়ে নেন। দর্শনার্থীরা ছবি তুললেও তাঁদের তাড়াতাড়ি ঠাকুর দর্শন করে বাইরে যেতে বলা হবে। সেই ক্ষেত্রে থানার ওসিরা নিজেদের এলাকার প্রত্যেক পুজো মণ্ডপের ক্ষেত্রে ‘ক্রাউড ফ্লো’ বা ‘ক্রাউড সার্কুলেশন’-এর জন্য স্ট্র্যাটেজি জবা বা পরিকল্পনা তৈরি করবেন। এই ব্যাপারে তাঁরা পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনাও করবেন। এরপর ডিভিশনের ডিসিরাও পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পুজো কমিটির স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তারক্ষীদেরও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রত্যেকটি মণ্ডপ সংলগ্ন রাস্তায় যাতে ট্রাফিক চলাচল মসৃণ থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। অনেক সময়ই দেখা যায়, রাস্তার উপর মণ্ডপ থাকলে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বা গাড়ির গতি ধীর করে অনেকে গাড়িতে বসেই ঠাকুর দেখার চেষ্টা করেন বা মণ্ডপের ছবি নেন। কিন্তু গাড়ির গতি যাতে ধীর না হয়, সেদিকে পুলিশকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বড় রাস্তাগুলিতে ট্রাফিক চলাচল মসৃণ রাখতে এখন থেকেই থানা ও ট্রাফিক গার্ডগুলিকে পরিকল্পনা করার নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের। তাঁর নির্দেশ, মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে দর্শনার্থীদের বড় অংশ ‘প্যান্ডেল হপিং’ করেন। তাই প্রত্যেকটি মেট্রো স্টেশনের বাইরে অতিরিক্ত সংখ্যক পুলিশ থাকবে। ফুটপাত যাতে দখলদার মুক্ত হয়ে ফাঁকা থাকে ও রাস্তা পারাপার করতে কারও অসুবিধা না হয়, সেদিকে পুলিশকে নজর রাখতে হবে। রাস্তায় যাতে আলো কম না থাকে, সেজন্য কেএমডিএ ও পুরসভাকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।