• আন্দোলনকারী পড়ুয়ার বাবার মাথা ফাটানোর অভিযোগ, অবশেষে গ্রেপ্তার স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ
    এই সময় | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • অবশেষে গ্রেপ্তার ‘সনাতনী যোদ্ধা’ বলে নিজেকে দাবি করা যুবক স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। শুক্রবারই উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর থেকে তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। শনিবার তাঁকে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর এদিন তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁকে একদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। একটি ইউটিউব পডকাস্টে তিনি নিজেই দাবি করেছিলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের আন্দোলন চলাকালীন তিনি একজনের মাথা ফাটিয়ে দেন। তার পরেও তিনি গ্রেপ্তার হননি। এই স্বীকারোক্তির পরেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল।

    ওই পডকাস্টে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ বলেন, ‘আপনারা কি জানেন এই অপরাধের জন্য কোন ধারা প্রযোজ্য? ধারা ৩০৭ (হত্যার চেষ্টা)... তা সত্ত্বেও আমাকে জেলে যেতে হয়নি। গোটা বিশ্বের এটা জানা উচিত। আমি সারা রাত ঘুরে বেড়িয়েছি।’ তিনি সেই পডকাস্টে দাবি করেছিলেন, যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত এক ১৪ বছর বয়সি দলিত ছাত্রীর বাবার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরেই সমাজমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই ১৪ বছর বয়সি দলিত কিশোরীও ‘এক্স’-এ (টুইটার) একটি আবেগঘন ভিডিয়ো পোস্ট করে। সেখানে কিশোরী জানায়, ভরদ্বাজের সমর্থকরা তাকে এবং তার পরিবারকে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে।

    শুক্রবার ককরোচ জনতা পার্টির CJP) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এবং অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা মিছিল করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। ওই যুবকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আবেদন করা হয়। পুলিশের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর, এফআইআর-এ এসসি/এসটি (SC/ST) আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো যুক্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত পাওয়ার পরই ‘হত্যার চেষ্টা’-র অভিযোগটি বিবেচনা করা হবে।

    উল্লেখ্য, বুলন্দশহরের ধামরা নারা গ্রামের বাসিন্দা এই স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের শাসকদলের প্রভাবশালী অনেক নেতার যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি। এমনকী, দিল্লির আন্দোলনে তিনি একজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার পরেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই পুলিশের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছেন বলেও দাবি করেছিলেন এই যুবক।

  • Link to this news (এই সময়)