গত ৩ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার পরে নিখোঁজ ছিল মহিষাদলের মঠ চণ্ডীপুরের বাসিন্দা রোহন মাইতি (১৫)। শুক্রবার মহিষাদল রাজবাড়ির ঝিল থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। বেসরকারি স্কুলের তরফে অভিভাবকদের জানানো হয়েছে, মহিষাদলে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার সময়ে মহিষাদল রাজবাড়ির ঝিলে বল কুড়োতে নেমে নিখোঁজ হয়েছিল রোহন। পরিবারের দাবি, জলে পড়ে গিয়ে তাঁদের ছেলের মৃত্যু হয়নি। যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। শনিবার সকালে মহিষাদলের বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজার সঙ্গে দেখা করে পরিবার। ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়েছেন তাঁরা। যদিও বিষয়টি নিয়ে ওই বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনও বক্তব্য মেলেনি।
মৃত ছাত্রের মা জানান, ৩ সেপ্টেম্বর যথাসময়ে রোহন স্কুলে যায়। দুপুর তিনটে নাগাদ স্কুল থেকে জানানো হয়, রোহনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্কুলে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ছেলে রাজবাড়ির ঝিলে বল কুড়োতে নেমে নিখোঁজ হয়। ঝিলে জাল ফেলে তল্লাশি শুরু হয়। স্পিড বোট নামানো হয়। জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা হাজির হন। সন্ধ্যার পরে নামানো হয় ডুবুরি। শেষ পর্যন্ত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর এসে শুক্রবার অর্থাৎ ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ন'টা নাগাদ রোহন মাইতির মৃতদেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ তমলুক জেলা হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়। এ দিন সকালে দেহ নিয়ে যায় রোহনের পরিবার।
মৃত ছাত্রের বাবা প্রদীপকুমার মাইতি বিদেশে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। শনিবার সকালে তিনি ফিরেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলে আমার ছেলেকে পাঠিয়েছি, সাড়ে ন'টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত যতক্ষণ না ছেলে বাড়ি ফিরছে, ততক্ষণ তাঁর সুরক্ষা স্কুলের দায়িত্ব। আমার বাচ্চার সুরক্ষা কোথায় ছিল?’ ঠিক কী ভাবে রোহনের মৃত্যু হয়েছে, সেই বিষয়টি চেপে যাওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের দাবি করেছেন, রাজবাড়ির মাঠে একটি টুর্নামেন্টে রোহন ও সহপাঠীরা খেলতে গিয়েছিল। সেই ম্যাচে তারা হেরে যায়। সবাই মিলে রোহনকে দায়ী করে এবং তাঁর উপরে মাঠে মানসিক নির্যাতন করা হয় বলেও দাবি। এর পরেই কোনও কারণে রোহনের মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
এ দিন মহিষাদল থানায় পরিবারের লোকের সঙ্গে দেখা করেন স্থানীয় বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজা। তিনি বলেন, ‘তাঁদের একটা সন্দেহ মনের মধ্যে তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল। বাচ্চাটিকে সঠিক সুরক্ষা দেয়নি। এই দাবি ন্যায্য।’ রোহনের পরিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে চান। সেই ব্যাপারেও আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক।