ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আয়োজনের জন্য বিপুল অর্থ জোগাড় করা নিয়েই যখন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে (AIFF) প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে, তখন কলকাতায় আরও একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ভাবনা সামনে এসেছে। ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের সঙ্গে রাশিয়ার দু’টি প্রীতি ম্যাচ হওয়ার কথা। তার মধ্যে কলকাতাতেও ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ব্রাজ়িল ম্যাচের আর্থিক চাপের মধ্যেই ফের কলকাতায় এত বড় আয়োজন করা কতটা সম্ভব?
৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে খেলবে ভারতীয় পুরুষ দল। ঐতিহাসিক এই ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই টিকিট বিক্রিতে বিপুল সাড়া মিলেছে। কিন্তু ম্যাচটি আয়োজন করতে এবং ব্রাজ়িলকে আনতে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে যে দাবি উঠেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় ফুটবলের প্রাক্তন অধিনায়ক ভাইচুং ভুটিয়া (Bhaichung Bhutia)।
এমন পরিস্থিতিতে পুরুষ দলের আরও একটি বড় ম্যাচও কলকাতায় হচ্ছে। ৬ অক্টোবর উরুগুয়ের (Uruguay) বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে কলকাতায় ব্রাজ়িল ও উরুগুয়ের মতো দুই বিশ্বকাপজয়ী দলের ম্যাচ আয়োজনের চাপ থাকছেই।
এর মধ্যেই অক্টোবরের আন্তর্জাতিক পর্বে ভারতীয় মহিলা দলের সঙ্গে রাশিয়ার দু’টি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাশিয়া বিশ্ব ক্রমতালিকায় ভারতের তুলনায় অনেক এগিয়ে। ফলে ভারতীয় দলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৮ ও ১১ অক্টোবর কলকাতায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ম্যাচগুলি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখনও চলছে বলে জানা গিয়েছে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর আরও শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলার লক্ষ্য ছিল ভারতীয় মহিলা দলের। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ হলে সেই লক্ষ্যও পূরণ হবে। একই সঙ্গে কলকাতায় আন্তর্জাতিক মহিলা ফুটবলের বড় ম্যাচ দেখার সুযোগ পাবেন সমর্থকেরা।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে একের পর এক আন্তর্জাতিক ম্যাচ অবশ্যই বড় খবর। কিন্তু ব্রাজ়িল ম্যাচের খরচের বিষয়ে যখন ফেডারেশনের আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন একই সময়ে আরও আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে খরচের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ব্রাজ়িল ম্যাচকে অগ্রাধিকার দিতে ভারত ফিফা আসিয়ান কাপ থেকেও নাম প্রত্যাহার করেছে। পরে পানামা, ব্রাজ়িল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাই মহিলা দলের রাশিয়া ম্যাচ কলকাতায় হলে প্রশ্নটা শুধু মাঠে খেলা নিয়ে থাকবে না। বড় ম্যাচ আয়োজনের খরচ, ফেডারেশনের আর্থিক সামর্থ্য এবং এই আয়োজন থেকে কতটা লাভ হবে— সব কিছু নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।