মিলন মেলায় পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, কী বার্তা দেবেন ৭ তারিখ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্গাপুজো (Durga Puja) দোরগোড়ায়। আর তার আগেই রাজ্য সরকারের তরফে ডাক পড়ল পুজো কমিটিগুলির। তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তর (Information and Cultural Affairs Department) জানিয়েছে, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টেয় মিলন মেলা প্রাঙ্গণে (Milan Mela ground) বসছে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক (coordination meeting)। আর সেই বৈঠকেই হাজির থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।
এ বারের পুজো কমিটি বৈঠক অন্য বারের থেকে অনেকটাই আলাদা। কারণ, এই প্রথম বার কোনও বিজেপি (BJP) সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পুজো কমিটিগুলির মুখোমুখি বসছেন শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ দিন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) আমলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে এই ধরনের বৈঠক করতেন, অনুদান থেকে নিরাপত্তা, সব বিষয়ে দিকনির্দেশ দিতেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে (2026 West Bengal Assembly election) ক্ষমতা বদলের পরে এই প্রথম বাংলার পুজো মরসুমে প্রশাসনিক অভিভাবকের ভূমিকায় দেখা যাবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলের নজর এই বৈঠকের দিকে।
সাম্প্রতিক কালে রাজ্য জুড়ে একটি জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছিল। পুজো মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি ও খাওয়া নিয়ে নাকি নিষেধাজ্ঞা জারি হতে চলেছে, এমনই একটি বার্তা সমাজমাধ্যমে (social media) ছড়ায়, যার সূত্র হিসেবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (Vishwa Hindu Parishad) নাম জড়ায়। যদিও ওই সংগঠন এই দাবি অস্বীকার করেছে, আর নবান্ন সূত্রের খবর, খাদ্যতালিকা নিয়ে কোনও নির্দেশিকা জারির পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের নেই। মিলন মেলার এই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই প্রসঙ্গে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে।
মিলন মেলার বৈঠকে সাধারণত অনুদান বিতরণ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা এবং দমকল ও পুলিশি প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। নতুন সরকারের আমলে পুজো কমিটিগুলির জন্য অনুদান নীতি (grant policy) বহাল থাকবে কি না, থাকলে তার পরিমাণ কতটা বদলাবে, সে দিকেও তাকিয়ে রয়েছেন উদ্যোক্তারা। প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত, নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা এ দিনের বৈঠকেই ঘোষণা হতে পারে।
অর্থাৎ, সামগ্রিকতার নিরিখে বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসবের ঠিক মুখে, নতুন সরকারের প্রথম বড় পুজো-বার্তা কেমন হয়, সে দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।