• পরিত্রাতা পথকুকুররাই! দিব্যাঙ্গ মহিলাকে ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচাল চারপেয়ের দল, ভাইরাল ভিডিও
    প্রতিদিন | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দিনরাত ঘেউ ঘেউ করে পথচারীদের উত্যক্ত করা, খাবারের জন্য নিজেদের মধ্যে মারামারি – রাস্তার কুকুর বললে এসব ছবিই উঠে আসে। কোথাও কোথাও আবার অন্যরকম ভূমিকাতেও তাদের দেখা যায় অবশ্য। পাড়ার কুকুররা চেনাশোনা লোক দেখলে সামান্য ভালোবাসার ছোঁয়া পেতে তাদের দিকে এগিয়ে যায় লেজ নাড়তে নাড়তে। সেখানে খাবারও তুচ্ছ হয়ে যায়। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে এমনই এক কুকুরের দল ঘটিয়ে ফেলল বড় ঘটনা! না, কোনও নেতিবাচক ব্যাপার নয়। বরং মানুষ যা করতে দ্বিধায় পড়ে, ওরা অনায়াসে সেটাই করে ফেলেছে। রাস্তার ধারে বিশেষভাবে সক্ষম এক মহিলাকে ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচাল পথকুকুরের দল! সেই ভিডিও এখন ভাইরাল। পশুপ্রেমী থেকে সাধারণ মানুষ, ওদের এই ভূমিকা দেখে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন সকলে।

    ঘটনাটি শুক্রবারের। রাতের দিকে কোয়েম্বাটোরের রাস্তা ছিল শুনশান। একদল কুকুর নিজেদের মতো ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছিল। তাদের সঙ্গে রোজ বেশিরভাগ সময় কাটান মানসিক ভারসাম্যহীন এক তরুণী। তিনি শুক্রবার রাতেও ছিলেন সেখানেই। এমন সময়ে মূর্তিমান বিপদ সামনে এসে দাঁড়ায়! রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দেখা যাচ্ছে, এক নাবালক মদ্যপ অবস্থায় ওই মহিলাকে টার্গেট করে এগিয়ে আসছে। সামনে এত কুকুর দেখে সে একটি ঢিল ছুড়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়। ঢিলের আঘাতে সকলে ছিটকে গেলেও একটি কুকুর তরুণীর কাছেই বসে ছিল। দিব্যাঙ্গ তরুণীকে দুর্বল ভেবে নাবালক যৌন হেনস্তার চেষ্টা করতেই ওই কুকুরটি প্রবল চিৎকার করতে করতে তেড়ে যায় অভিযুক্তের দিকে! তার পা কামড়ে ধরে দূরে টানতে থাকে।

    তার চিৎকার শুনে বাকি কুকুররাও অকুস্থলে ছুটে যায়। সবাই মিলে নাবালককে এমন ভয় দেখায় যে সেখান থেকে কার্যত হাতে প্রাণ নিয়ে পালায় সে। পরবর্তী সময়ে অন্য একটি মামলার জন্য পুলিশ সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে গিয়ে এই ঘটনা চোখে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মহিলার খোঁজ করে। জানা যায়, কুকুরদের মাঝে বেশ নিরাপদেই রয়েছেন তিনি। ধর্ষণের মতো বড় বিপদ থেকে পথকুকুররা যে এভাবে তাঁকে বাঁচিয়েছেন, তা পুলিশকে বারবার বলার চেষ্টা করেন দিব্যাঙ্গ মহিলা। পুলিশের দৌলতেই এই খবর ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়।

    ভিডিওটির কমেন্ট বক্স ভরে উঠেছে নেটিজেনদের মন্তব্যে। কেউ কেউ কুকুরদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কেউ নিজেদের পশুপ্রেমের কথা তুলে ধরে লিখেছেন, ‘এই জন্যেই ওদের এত ভালোবাসি।’ কারও মন্তব্য, ‘মানবিকতা বোধ ওদের থেকে শেখা উচিত।’ একজনের মন্তব্য বেশ অভিনব। তিনি লিখেছেন, ‘সব হিরোর মাথায় মুকুট থাকে না। কারও কারও থাবা, লেজও থাকে।’ সত্যি! ওরাই মানুষের প্রকৃত বন্ধু।
  • Link to this news (প্রতিদিন)