শিক্ষক দিবসের শুভদিনে শতবর্ষে পা রেখেছে দিল্লির ‘শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্স’ (এসআরসিসি)। শনিবার এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই দেশের যুব শক্তির ঢালাও প্রশংসা করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, একেবারে জেন জি স্টাইলে প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গেল, “এখানকার প্রাক্তন ছাত্ররা একেবারে ওজি।” এই ওজি শব্দের অর্থ হল ‘অরিজিনাল গ্যাংস্টার’। যার ব্যাখ্যা করলে দাঁড়ায়, চূড়ান্ত সফল।
২০১৩ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন শেষবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন মোদি। ১৩ বছর আগের সেই দিন স্মরণ করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সূচনালগ্নের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল দরিয়াগঞ্জের একটি ছোট জায়গা থেকে। এখন এটি একটি বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে, যা বহু প্রজন্মকে ছায়া দিয়ে চলেছে। এসআরসিসি-র প্রতিষ্ঠাতা শ্রী রামকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোদি বলেন, “১৯২৬ সালে শিল্পপতি স্যার শ্রী রাম এই কলেজের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১০০ বছরে এই কলেজ দেশকে স্কলার, প্রশাসক, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক দিয়েছে। আগামী ২৫ বছর, অর্থাৎ বিকশিত ভারতের যাত্রায় এসআরসিসি-র পড়ুয়ারাই নেতৃত্ব দেবেন।” এরপরই এসআরসিসি প্রাক্তনীদের কৃতিত্বের কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের ভাষায়, এখানকার প্রাক্তনীরাই হলেন আসল ‘ওজি’। তাঁরা বিশ্বজুড়ে এসআরসিসি-র জন্য গৌরব তুলে ধরেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ছাপ রেখেছেন।”
এই অনুষ্ঠানের আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল দেশের যুবসমাজের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মত বিনিময়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের স্বপ্ন, তাদের সমস্যা সরাসরি শুনতে চান তিনি। সেই লক্ষ্যে বিজেপির তরফে নয়া কর্মসূচিও করা হচ্ছে, তা হল জেন জি আউটরিচ কর্মসূচি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই অনুষ্ঠানের মধ্যমে তাঁরই সূচনা হল। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া আগে মেট্রোয় সফর করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। সেখানে জেন জি-দের মত বিনিময় হয় প্রধানমন্ত্রীর।
উল্লেখ্য, এর আগে এপ্রিল মাসে এসআরসিসি-র শতবর্ষ উপলক্ষে একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আজকের অনুষ্ঠানে তিনি কলেজকে জাতীয় কর্পোরেট গভর্নেন্স কেন্দ্রের মর্যাদা পাওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। প্রসঙ্গত, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একমাত্র কলেজ হিসেবে এই স্বীকৃতি পেয়েছে এসআরসিসি।