• দিমাগি নকশালের পর এবার ‘নারাজ ফুফা’, জিডিপি বিতর্ক উড়িয়ে বিরোধীদের তোপ মোদির
    প্রতিদিন | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • কেন্দ্রের তরফে জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির দাবিতে জল মেশানো রয়েছে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। শনিবার এই ইস্যুতে বিরোধীদের একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সুর চড়িয়ে তিনি বললেন, ‘মিথ্যার গুঞ্জন কখনও সত্যের গর্জনের কাছে টিকতে পারে না।’ পাশাপাশি সমালোচকদের, ‘দিমাগি নকশাল’ ও ‘নারাজ ফুফা’ বলে কটাক্ষ করলেন মোদি।

    দেশের জিডিপি বৃদ্ধির রিপোর্টে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ। দাবি করেছেন কেন্দ্র আদতে ‘আর্থিক বৃদ্ধির হার’ বলে যা দেখাচ্ছে- তা বাস্তব নয়। জিডিপি হিসাবের ক্ষেত্রে গত আর্থিক বছর থেকে সরকার ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তন করেছে। ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তিত হওয়ায় হিসাবের হেরফের হয়েছে বলে প্রাক্তন অর্থসচিবের দাবি। এই ইস্যুতে শনিবার দিল্লিতে শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্সের শতবর্ষ উদযাপনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মোদি বলেন, “যারা ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’-এ ঠেলে দিয়েছিল, তারাই আজ এই পরিসংখ্যান হজম করতে পারছে না। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি যে স্থিতিশীল দেশের জিডিপি তা প্রমাণ করেছে।” ২০১৩ সালের অতীত তুলে ধরে মোদি বলেন, “তখন টাকার দর ভয়ংকরভাবে পড়েছিল, মুদ্রাস্ফীতি ছিল প্রায় ১০%, কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ঘাটতি, বেহাল আর্থিক নীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত ছিল দেশ। সেই সময় বিশ্ব ভারতকে ফ্র্যাজাইল ফাইভ বলত, আজ বিশ্ব দেখছে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি।”

    ২০১৩ সালের সেই অর্ধেক গ্লাসের তত্ত্ব তুলে ধরে মোদি আরও বলেন, “কেউ গ্লাসকে অর্ধেক ভরা দেখে, কেউ অর্ধেক খালি। আমি বলেছিলাম গ্লাস পুরোটাই ভরা – অর্ধেক জলে, অর্ধেক হাওয়ায়। যারা ২০১৩-তে গ্লাস অর্ধেক খালি দেখত, আজও দেশকে সেই চোখেই দেখে। তাদের কাছে গ্লাস সবসময় অর্ধেক খালিই থাকবে। আমি গ্লাসের কথাই বলছি, অন্য কিছু খালি থাকার কথা নয়।” শনিবারের এই ভাষণকে ২০১৩ সাল থেকে নিজের ‘রিপোর্ট কার্ড’ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মিথ্যার গুঞ্জন সত্যের গর্জনের সামনে টিকতে পারে না।” দেশের আর্থিক উন্নতির উদাহরণস্বরূপ জন ধন যোজনার উদাহরণ টেনে মোদি বলেন, গত ১২ বছরে ৬০ কোটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যা গরিব মানুষকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় এনেছে। অভিযোগ করেন, সমালোচকরা চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষ মৌলিক পরিষেবার জন্য ‘মাই-বাপ’ সংস্কৃতির উপর নির্ভরশীল থাকুক।

    পাশাপাশি মেড ইন ইন্ডিয়া কর্মসূচির প্রশংসা করে বিরোধীদের একহাত নেন মোদি। বলেন, “২০১৪ সালে ভারত বেশিরভাগ মোবাইল আমদানি করত। আজ ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি মোবাইল রপ্তানি করে।” এপ্রসঙ্গেই সমালোচকদের দুইভাগে ভাগ করেন। বলেন, “একটা পক্ষ হচ্ছে ‘দিমাগি নকশাল’, আর এক পক্ষ হচ্ছে নারাজ ফুফা। এরা ইউপিআই, বুলেট ট্রেন, স্ট্যাচু অফ ইউনিটি, নতুন সংসদ ভবনের মতো প্রতিটি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এরাই কোভিড, যুদ্ধ, সাপ্লাই চেইন সংকটে ভারত দুর্বল হবে বলে তারা আশা করেছিল, কিন্তু দেশ এগিয়েই চলেছে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)