অভিভাবকরা মাছ ধরলেও পাতে পড়ে না! শিক্ষক দিবসে স্কুলের ইলিশ উৎসবে সেই পড়ুয়ারাই আনন্দে মাতোয়ারা
প্রতিদিন | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলের মিড ডে মিলের রোজের মেনু এদিন আর নয়। ইলিশের গন্ধে স্কুল যেন মাতোয়ারা। ছোট ছোট পড়ুয়াদের মুখে খুশির ঝলক। খাবার পাতে ইলিশ পেয়ে আনন্দে স্কুলের পড়ুয়ারা। শিক্ষক দিবসে এমনই আনন্দের ছবি ধরা পড়ল ফলতা এফপি স্কুলে। জানা গিয়েছে, পড়ুয়াদের অভিভাবকরা অনেকেই পেশায় মৎস্যজীবী। বর্ষায় তাঁদের জালে ইলিশ মাছও উঠছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি হওয়ায় পাতে সেই ইলিশের টুকরো পড়ে না। শিক্ষক দিবসে ইলিশ মাছ খেয়ে উচ্ছ্বসিত পড়ুয়ারা।
শিক্ষক দিবসে ফলতার অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুলে হইহই করে হল ইলিশ উৎসব। কচিকাঁচাদের পাতে পড়ল ইলিশের রকমারি পদ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এফপি স্কুলের অধিকাংশই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা পড়ুয়া। অনেকেই মৎস্যজীবী পরিবারের। ফলতায় হুগলি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেকেই। জালে ধরা পড়ে সমুদ্রের রুপোলি শস্য ইলিশও। কিন্তু আর্থিক অনটনে ছেলেমেয়েদের পাতে তাঁরা দিতে পারেন না নদীর সেই সুস্বাদু ইলিশ। জালবন্দি সব মাছটুকুই বিক্রি করে দিতে হয় বাজারে।
এবার প্রধান শিক্ষকের কাছে কচিকাঁচারা আবদার জুড়েছিল স্কুলেই আয়োজন হোক ইলিশ উৎসবের। পড়ুয়াদের আবদার ফেলতে পারেননি প্রধান শিক্ষক তিলক নস্কর। ঘোষণা করেছিলেন শিক্ষক দিবসের দিনই মিড ডে মিলে ছাত্রছাত্রীদের পাতে দেবেন ইলিশের রকমারি পদ। যেমন কথা তেমনই কাজ। আজ, শুক্রবার শিক্ষক দিবসের দিন স্কুলে হল । ইলিশের তেল, ইলিশ ভাজা ও ইলিশ ভাপা দিয়ে ভাত মেখে দুপুরে হইহই করে চলল খাওয়াদাওয়া।
প্রধান শিক্ষক তিলক নস্কর জানান, অভিভাবকদের বলা হয়েছিল ফলতার নদী থেকে যে মাছ তাঁরা ধরেন সেই ইলিশই শনিবার পড়ুয়াদের খাওয়ানোর জন্য দিতে হবে। পাইকারি দামে কিনে নেবেন তিনি। নদী থেকে অভিভাবকদের ধরা সেই ইলিশ পাওয়াও যায়। সেই ইলিশ উৎসবের আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে স্কুলে। এমন আয়োজন করে পড়ুয়াদের ইলিশ রসনায় তৃপ্ত করতে পেরে খুশি তিলক নস্কর। বহুদিন পর সুস্বাদু ইলিশের স্বাদ পেয়ে বেশ খুশি পড়ুয়ারাও। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা শিক্ষক দিবসের দিনই প্রধান শিক্ষকের এই অভিনব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।