ফরাক্কা রেললাইনে সফল ট্রায়াল রান! রাতেই স্বাভাবিক হবে উত্তরবঙ্গের পরিষেবা? আশার কথা শোনাল রেল
প্রতিদিন | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অবশেষে ফরাক্কা রেল লাইনের ধস মেরামত হল! ইনস্পেকশন কার দিয়ে দফায় দফায় করা হচ্ছে ট্রায়াল রান। রেল সূত্রে খবর, সব ঠিক থাকলে শনিবার রাত থেকে স্বাভাবিক হতে পারে উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গ ট্রেন পরিষেবা। আর তা শুরু হলে কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হতে পারে পরিস্থিতি। কিন্তু একটি সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লেগে যেতে পারে। বিশেষ করে নরম মাটি হওয়ায় ওই পথে যাত্রী নিয়ে ট্রেন চালাতে বেশ কিছুটা সময় নিচ্ছে রেল। অপেক্ষা করছে রেল সেফটি কমিশনারের সবুজ সংকেতের উপর। জানা গিয়েছে, রাতেই রেল সেফটি কমিশনারের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে যাবেন। খতিয়ে দেখবেন পরিস্থিতি। আধিকারিকরা সবুজ সঙ্কেত দিলেই একেবারে পুরোদমে রেল চলাচল শুরু হবে বলে দাবি।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, ধসে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। শনিবারই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। যদিও কখন থেকে ট্রেন সুনির্দিষ্ট টাইম টেবিল মেনে ট্রেন ছুটবে সেটা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ধসের জেরে শনিবারও বহু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। একাধিক ট্রেন চালানো হচ্ছে ঘুরপথে। আটকে পড়া যাত্রীদের জল ও খাবারের বন্দোবস্ত করছে রাজ্য সরকার। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে অতিরিক্ত বাস চালানো হচ্ছে। তবু বিপুল সংখ্যক যাত্রীদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। শনিবার উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতামুখী যে ট্রেনগুলো বাতিল করা হয়েছে সেগুলো হল, ১২৩৪৬ গুয়াহাটি- হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস, ১৩১৪৮ বামনহাট-শিয়ালদহ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, ১৩১৫০ আলিপুরদুয়ার – শিয়ালদহ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, ১২৩৪৪ হলদিবাড়ি- শিয়ালদা দার্জিলিং মেল, ১৩১৯০ বালুরঘাট-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, ১২৩৭৮ আলিপুরদুয়ার- শিয়ালদহ-পদাতিক এক্সপ্রেস, ১৩১১৬ জলপাইগুড়ি- শিয়ালদহ হামসফর এক্সপ্রেস, ১৩১৪৬ রাধিকাপুর- কলকাতা এক্সপ্রেস, ১৩১৬০ যোগবাণী- কলকাতা এক্সপ্রেস, ১৩০৩৪ কাটিহার- হাওড়া এক্সপ্রেস, ১৩০৫৪ রাধিকাপুর- হাওড়া কুলিক এক্সপ্রেস, ১৩১৬২ বালুরঘাট- কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস, ১৩১৪২ নিউ আলিপুরদুয়ার- শিয়ালদহ তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস ট্রেন। তবে শিয়ালদহ কিংবা কলকাতা স্টেশন থেকে কোনও ট্রেন এখনও পর্যন্ত বাতিল হয়নি বলেই খবর।
প্রসঙ্গত, একটানা বৃষ্টির জেরে বৃহস্পতিবার ভোরে ফারাক্কায় রেললাইনের নিচে প্রায় ৬ ফুট মাটি ধসে যায়। প্রায় ৫৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রায় ১৫০ জন রেলকর্মী ও ইঞ্জিনিয়ার দিনরাত ধস মেরামতের কাজ চালাচ্ছেন। লাইনের নিচে নতুন করে স্টোন চিপস ও মাটি ফেলে ট্র্যাক ঠিক করা হয়। মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। দুফায় করা হয়েছে ট্রায়াল রানও। জানা গিয়েছে, একটি যাত্রীবাহী ট্রেনও পার করানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল একেবারেই স্বাভাবিক নয়। এহেন পরিস্থিতিতে দীর্ঘসময় আটকে থাকা এক যাত্রী জানান, আমি যে ট্রেনে ছিলাম সেটিকে ধীরে ধীরে পার করানো হয়েছে। তবে তাঁর আশঙ্কা, প্রবল বৃষ্টিতে মাটি অনেকটাই নরম হয়ে গিয়েছে। নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা থাকছে। এই অবস্থায় রেল কিছুটা সময় নিচ্ছে বলেই মত ওই যাত্রীর।
তবে এই পরিস্থিতিতে ট্রেনের বদলে যাতায়াতের বিকল্প ছিল উড়ান অথবা বাস। কিন্তু বহু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল হতেই কলকাতা-বাগডোগরা রুটের বিমানের টিকিটের দাম একলাফে অনেকটাই বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। সাধারণ সময়ের তুলনায় বেড়ে ৮ হাজার টাকা থেকে ১৪ হাজার টাকা অথবা তার বেশি হয়। অন্যদিকে বেসরকারি বাসের ভাড়াও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি নেওয়া হয় বলে অভিযোগ যাত্রীদের একাংশের। যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা–শিলিগুড়ি রুটে সরকারি বাস বাড়ানো হয়। এছাড়াও দুর্গাপুর–বালুরঘাট, কলকাতা–বালুরঘাট, মালদহ-কলকাতা রুটেও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হয়। কিন্তু উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন রেল। সেই ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সরকারি বাসের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে ওঠে। ওই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।