৬২ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক রেল পরিষেবা! কীভাবে এত বড় ধস? আইআইটি খড়গপুরের সাহায্য নেবে রেল
প্রতিদিন | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রায় ৬২ ঘণ্টার দীর্ঘ টানাপোড়েন ও উদ্বেগের পর অবশেষে নিউ ফরাক্কায় রেল লাইনের ভূমি ধস মেরামতের কাজ সম্পূর্ণ। ধসের কারণে বুধবার প্রায় গভীর রাত থেকে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ। অবশেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে ট্রেন চলাচলও। যদিও শতাব্দী-সহ একাধিক ট্রেনকে ঘুরপথেই চালাচ্ছে রেল। তবে এই ধরনের বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেতে স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটতে চায় রেল! এমনকী কেন এমন ভূমিধসের ঘটনা ঘটল তা জানতে আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে।
মালদহ ডিভিশনের নিউ ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় আপ রেল লাইনে হঠাৎ ধস দেখা দেওয়ায় গত বুধবার রাত থেকে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বাতিল করা হয় একের পর এক ট্রেন। এমনকী বেশ কিছু ট্রেনকে ঘুরপথে চালাতে বাধ্য হয় পূর্ব রেল। চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে রেল। শনিবার সকাল থেকে মেরামতির কাজে গতি বাড়ে। কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তাঁদের করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান খোদ পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে।
শনিবার বিকেলের মধ্যেই আপ লাইনের ধস মেরামতের কাজ সম্পূর্ণ হয়। এরপরই শুরু হয় ট্রায়াল রান এবং ওভারহেড বিদ্যুৎ সংযোগের চূড়ান্ত পরীক্ষা। দফায় দফায় পরীক্ষার পর কার্যত স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। জিএম গীতিকা পান্ডে সাংবাদিকদের জানান, “ফরাক্কায় আপ লাইনে যে ধস দেখা দিয়েছিল, তার মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। মধ্যরাত থেকে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক।” তবে এই লাইনে ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে বলেও এদিন জানান গীতিকা পান্ডে।
তাঁর কথায়, ”যেহেতু নিউ ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি বড় কাজ হয়েছে তাই এখন এখানে ‘কশান’ মেনে ট্রেন চলাচল করবে। ট্রেনের গতি এখানে ২০ -৩০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকবে। কিন্তু আমরা কোনও মতেই যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে সমঝোতা করতে রাজি নই। তাই সবার আগে যাত্রীদের সুরক্ষার দিকটি নজরে রাখতে হচ্ছে।” ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছে রেল। এর জন্য আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি আগামী তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিলে স্থায়ী প্রতিরোধের কাজ শুরু হবে। কিন্তু কীভাবে এই ধস নামল?
জানা গিয়েছে, এই লাইনের দুপাশে রয়েছে বিশাল জলাশয়। তার ঠিক মাঝখান দিয়ে গিয়েছে এই রেললাইনে। গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টির কারণে নরম মাটি সহজেই সরে যায়। এরফলে ধস নামতে শুরু করে। তবে এই বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে ‘তদন্ত’ করতে চায় রেল। আর সেজন্য আইআইটির সাহায্য নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন গীতিকা পান্ডে। বলেন, ”নিউ ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এত বড় ভূমিধসের ঘটনা কেন ঘটল এই নিয়ে আমরা আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞদের মতামত নেব। তবে এই এলাকায় আগে এত বড় ভূমি ধসের ঘটনা ঘটেনি। আমরা রেলের বিভিন্ন বিভাগের কাছ থেকেও গোটা বিষয়টি নিয়ে তথ্য নিচ্ছি।”
তবে সঠিক সময়ে বিষয়টি নজরে না এলে বড় বিপদ যে ঘটে যেতে পারত তা স্বীকার করে নিয়েছেন পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি। তিনি বলেন, “আমরা খুবই ভাগ্যবান, ভগবান আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছেন। অতিবর্ষার কারণে ট্র্যাকের যে অবস্থা হয়েছিল, তাতে যেকোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। রেলের পেট্রোলিং টিম নিয়মিত নজরদারির সময় ট্র্যাকের অস্বাভাবিক অবস্থা লক্ষ্য করে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি উচ্চ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং সমস্ত প্যাসেঞ্জার ও এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।দুদিন ধরে যাত্রীদের যে ভোগান্তি হয়েছে, তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু যাত্রী সুরক্ষাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”