পুনের লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিং করতে গিয়ে খাদে পড়ে মৃত্যু—প্রথমে এমনটাই মনে করা হয়েছিল ২৬ বছরের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের ক্ষেত্রে। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই বদলেছে সেই ‘দুর্ঘটনা’র গল্প। পুলিশের দাবি, বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে কেতনকে পরিকল্পনা করে খাদে ঠেলে দিয়েছিলেন। এ বার সেই খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল আরও এক যুবককে। ফলে এই মামলায় গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে রীতেশ হাঙ্গেকে। তিনি চেতন চৌধুরীর বন্ধু। তদন্তকারীদের দাবি, কেতনকে খুনের পরিকল্পনার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন রীতেশ। এমনকি কী ভাবে কেতনকে খুন করা হবে এবং ঘটনার পরে কী ভাবে প্রমাণ নষ্ট করা যায়, সেই নিয়েও তাঁর সঙ্গে চেতনের যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ।
পুনে গ্রামীণ পুলিশের এসপি সন্দীপ সিং গিল জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালীন রীতেশের এই ঘটনায় যুক্ত থাকার বিষয়টি সামনে আসে। তাঁর মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশের দাবি, ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া চ্যাটে কেতনকে লোহাগড় দুর্গ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা এবং অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলার বিষয়ে আলোচনা ছিল।
পুলিশের আরও দাবি, কেতনকে প্রথমে সরাসরি খুন না করে তাঁর হাত-পা ভেঙে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে তাঁকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেন অভিযুক্তরা বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেই পরিকল্পনা সম্পর্কে রীতেশ ভালোভাবেই জানতেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। কেতনকে লোহাগড় দুর্গ থেকে খাদে ঠেলে দেওয়ার পরে চেতনই রীতেশকে ফোন করে গোটা ঘটনা জানিয়েছিলেন বলেও পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর রীতেশকে ভাদগাঁও মাভল সেশনস কোর্টে তোলা হয়। আদালত তাঁকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে তদন্তকারীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
১৮ জুন সিয়া গোয়াল তাঁর বাগদত্তা কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন। পরে কেতনকে খাদে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসাবেই দেখেছিল পুলিশ এবং সেই অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু কেতনের পরিবারের সন্দেহ থেকেই তদন্তে নতুন মোড় আসে।
কেতনের মৃত্যুর চার দিন পরে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলেন সিয়া। সেখানে কেতনের বোন তাঁকে দুর্গে ঠিক কী ঘটেছিল তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেন। সিয়ার বক্তব্যে অসঙ্গতি এবং কিছু প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দেওয়ায় তাঁর সন্দেহ আরও বাড়ে। কেতনের বোনের সন্দেহের কথা পরিবারের অন্য সদস্যদের জানানোর পরে তাঁরা পুলিশের কাছে গিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি করেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, কেতন এবং সিয়া ৩১ মে ও ১৪ জুন লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন। তৃতীয় বার তাঁরা সেখানে যান ১৮ জুন—যে দিন কেতনের মৃত্যু হয়।
পুলিশের দাবি, বার বার দু’বার দুর্গে যাওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, কেতনকে খাদে ফেলার পরিকল্পনাতেই বার বার দুর্গে গিয়েছিলেন অভিযুক্তরা।
তদন্তকারীদের হাতে আসা CCTV ফুটেজও এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুলিশের নজরে আসে, জুন মাসের প্রবল গরমে দুর্গের আশপাশে এক যুবক হুডি পরে কেতন ও সিয়াকে অনুসরণ করছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি ছিলেন চেতন চৌধুরী। পরে সিয়া ও চেতনের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। দু’জনের মধ্যে হওয়া ফোনকল ও চ্যাটের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে আসে। পুলিশের অভিযোগ, সিয়ার সঙ্গে কেতনের বিয়ে তাঁদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই কারণেই কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
তদন্তে পুলিশের দাবি, সিয়া এবং চেতন শুধু ঘটনাস্থলে গিয়ে আচমকা কেতনকে ধাক্কা দেননি। বরং এর পিছনে ছিল ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা। এমনকী খুনের পদ্ধতি নিয়ে ইন্টারনেটে খোঁজখবর এবং লোহাগড় দুর্গে আগে গিয়ে ‘মহড়া’ দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার দিন চেতন গাড়ির বদলে স্কুটারে লোহাগড়ে গিয়েছিলেন বলেও তদন্তকারীরা দাবি করেছেন। টোল প্লাজা এবং CCTV-তে গাড়ির নম্বর যাতে ধরা না পড়ে, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের অনুমান। চেতনের ব্যবহৃত স্কুটার, হুডি এবং হেডফোনও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।
সিয়া গোয়াল এবং চেতন চৌধুরীকে ২৩ জুন গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে কেতনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বার রীতেশ হাঙ্গেকে গ্রেপ্তার করে জেরা করছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এই ষড়যন্ত্রে আরও কেউ যুক্ত ছিলেন কি না।
বিশেষ করে রীতেশের ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া কথোপকথন ও চ্যাট এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। মুছে দেওয়া তথ্য ফরেনসিক পদ্ধতিতে উদ্ধার করে পুলিশ খুনের আগে ও পরে অভিযুক্তদের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে।
১৮ জুন পুনের লোহাগড় দুর্গে বাগদত্তা সিয়া গোয়ালের সঙ্গে ট্রেকিংয়ে গিয়ে খাদে পড়ে কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু হয়। প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও পরে পুলিশ এটিকে পরিকল্পিত খুনের মামলা হিসেবে তদন্ত শুরু করে।
তৃতীয় অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রীতেশ হাঙ্গেকে। তিনি চেতন চৌধুরীর বন্ধু বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, কেতনকে খুনের পরিকল্পনার কথা রীতেশ আগে থেকেই জানতেন। খুনের পদ্ধতি এবং ঘটনার পরে প্রমাণ নষ্ট করার বিষয়েও তাঁর সঙ্গে চেতনের যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশের দাবি, রীতেশের মোবাইলের ফরেনসিক পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ চ্যাট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে কেতনকে লোহাগড় দুর্গ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া এবং প্রমাণ মুছে ফেলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
সিয়া গোয়াল এবং চেতন চৌধুরীকে ২৩ জুন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে কেতনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পরে রীতেশ হাঙ্গেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিয়া ছিলেন কেতন আগরওয়ালের বাগদত্তা। পুলিশের তদন্তে সিয়ার সঙ্গে চেতন চৌধুরীর সম্পর্কের কথাও সামনে আসে। পুলিশের অভিযোগ, কেতনের সঙ্গে সিয়ার বিয়ে তাঁদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তদন্ত অনুযায়ী, কেতন ও সিয়া ৩১ মে, ১৪ জুন এবং ১৮ জুন—মোট তিন বার লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন। ১৮ জুনই কেতনের মৃত্যু হয়।
পুলিশের দাবি, জুনের প্রবল গরমের মধ্যেও এক যুবককে হুডি পরে কেতন ও সিয়াকে অনুসরণ করতে দেখা যায়। তদন্তকারীরা ওই ব্যক্তিকে চেতন চৌধুরী বলে শনাক্ত করেছেন বলে দাবি।
গ্রেপ্তারের পর রীতেশকে ভাদগাঁও মাভল সেশনস কোর্টে তোলা হয়। আদালত তাঁকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
রীতেশের মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া চ্যাট ও কথোপকথন খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খুনের আগে ও পরে অভিযুক্তদের মধ্যে যোগাযোগ এবং এই ষড়যন্ত্রে আরও কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।