নিজের লিভ-ইন পার্টনারকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা অভিযোগ রয়েছে যুবকের উপরে। অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধের নাট্যরূপ করতে গিয়ে সেই যুবককে বেধড়ক মারধর করল পুলিশ। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ভাবনগর এসটি বাস স্ট্যান্ড চত্বরে ৪০ বছর বয়সি কাজলবেন বাড়াইয়া এবং তাঁর ২০ লিভ-ইন পার্টনার ফয়জল খানের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। অন্য এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জন্য সন্দেহ ও মদ্যপান ঘিরে বিবাদ শুরু হয়। বচসা চলাকালীন ফয়জল আচমকাই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। যুবতীকে রাস্তায় ফেলে মারাত্মকভাবে চড়-থাপ্পড়, লাথি ও ঘুষি মারতে থাকে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত রবি গোহিল নামের যুবতীর এক বন্ধু ও তাঁর ভাই বাঁচাতে এগিয়ে এলে ফয়জল তাঁকেও মারধর করে। বাস স্ট্যান্ডের সিসিটিভিতে পুরো ঘটনার রেকর্ড হয়। ভিডিয়োতে দেখা যায়, কয়েক মিনিট ধরে তাণ্ডব চললেও আশেপাশে কেউ ও যুবতীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। গুরুতর আহত অবস্থায় যুবতীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন (৪ সেপ্টেম্বর) তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত যুবতীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ফয়জলের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিটি ডিওয়াইএসপি (DySP) আর.আর. সিঙ্ঘল জানান, অভিযুক্ত ফয়জলের বিরুদ্ধে অতীতেও ছিনতাই ও হামলার একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।
শনিবার পুলিশ যখন ফয়জলকে বাস স্ট্যান্ডে নিয়ে যায়, তখন সেখানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়ো ও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ তাকে অকুস্থলে নিয়ে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে সম্পূর্ণ ঘটনার ধারাবাহিকতা যাচাই করে। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময়েই বাস স্ট্যান্ডে পুলিশ কর্মীরা অভিযুক্তকে বেধড়ক মারধর করেন।
একটি ভিডিয়োয় (যাচাই করেনি এই সময়) দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ডে বেশ কয়েকজন পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঘিরে রেখেছেন। অভিযুক্তকে দড়ি দিয়ে বাঁধা রয়েছে। লাঠি দিয়ে অভিযুক্তকে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।