নাম ঘোষণা হয়েছিল আগেই। এ বার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬ নিলেন বর্ধমানের শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। ২১ অগস্ট প্রকাশিত হয় জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের তালিকা, সেই তালিকার মধ্যে রাজ্যের দু’জন শিক্ষকের নাম ছিল। তাঁদেরই এক জন পূর্ব বর্ধমান জেলার শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। আট বছর পর পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে কেউ জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পাওয়ায় খুশি জেলার শিক্ষা মহল।
বর্ধমান শহরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শিক্ষক দিবসের দিন, শনিবার নয়া দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। রাষ্ট্রপতি তাঁর হাতে তুলে দেন এই পুরস্কার। স্কুলের উন্নতির জন্য একাধিক কাজের স্বীকৃতিতে এই পুরস্কার। খিদের কারণে শিশুদের পড়াশোনায় যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য বিশেষ ভাবে পুষ্টির দিকে খেয়াল রাখার কাজ করেছেন পলাশ চৌধুরী। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে ডিজিটালাইজ়ড করেন তিনি—যার মধ্যে রয়েছে স্মার্ট ক্লাসরুমে পড়াশোনার ব্যবস্থা। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি বেড়েছে। নতুন ভর্তির সংখ্যা তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পলাশ চৌধুরী জানিয়েছেন, সকাল ১১টা নাগাদ নয়া দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে অনুষ্ঠান শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘একের পর এক শিক্ষকদের নাম ডাকা হয়। কিছুক্ষণ পরে আমার নাম ডাকা হয়। তারপর রাষ্ট্রপতি জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার আমার হাতে তুলে দেন। আমার জীবনের সেরা পাওনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি যা করেছি আমার স্কুলের সন্তানদের জন্য, আমি আমার সন্তানদের থেকেও তাদের বেশি ভালবাসি, আমার স্কুলের শিক্ষকরাও আমার এই উদ্যোগে হাত লাগিয়েছেন। এই পুরস্কার তাঁদের জন্যই পাওয়া।’ দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি এসেছেন তিনি। রবিবার ফেরার ফ্লাইট রয়েছে তাঁর।
শিক্ষাকে শুধু বইয়ের পাতায় আটকে না রেখে প্রযুক্তির সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের পাঠকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়। অগমেন্টেড রিয়ালিটির সাহায্যে বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে ডিজিটাল ছবি, লেখা এবং ত্রিমাত্রিক মডেল যুক্ত করে পড়ুয়াদের বিভিন্ন বিষয় বোঝানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মাধ্যমেও জটিল বিষয়কে সহজে বোঝানোর উদ্যোগ রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ছাড়াও পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ এবং অভিভাবকদের ভূমিকার উপরেও জোর দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষার ফল বা পড়াশোনার নিরিখে পুরস্কার না দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘সেরা হাসিমুখ’, ‘ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ’, ‘সেরা হাতের লেখা’, ‘উদীয়মান প্রতিভা’ এবং সর্বাঙ্গীন উন্নতির জন্য ‘বর্ষসেরা পড়ুয়া’—এমন একাধিক বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে জায়গা করে নিয়েছেন অভিভাবকেরাও। সারা বছর পড়াশোনা এবং নানা কাজে সন্তানদের পাশে থাকার জন্য মায়েদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘সেরা আপনজন’ সম্মান। স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, পড়ুয়ার সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ।