• ‘অযোগ্য’, ‘ফ্রড’! মান্ডির আধিকারিকদের ব্যাপক বকাবকি কঙ্গনার, হলোটা কী?
    এই সময় | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজের লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি এবং সাংসদ তহবিলের টাকা খরচের হিসাব নিয়ে সরকারি আধিকারিকদের উপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। হিমাচল প্রদেশের মান্ডিতে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ কমিটি বা DISHA (District Development Coordination and Monitoring Committee)-র বৈঠকে আধিকারিকদের কার্যত ধমক দিতে দেখা গেল তাঁকে। তাঁর অভিযোগ, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও তার সামান্য অংশই এখনও খরচ হয়েছে।

    বৈঠকে কঙ্গনা প্রশ্ন তোলেন, এত টাকা বরাদ্দ থাকার পরেও কেন প্রকল্পগুলির কাজ এগোচ্ছে না। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রায় ১১ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আধিকারিকদের কাছে কাজের অগ্রগতি এবং টাকা খরচের বিস্তারিত রিপোর্ট চান তিনি।

    বৈঠকে আধিকারিকদের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে কঙ্গনাকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা তাঁকে বার বার এমন তথ্য দিচ্ছেন যা তাঁর মতে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলছে না।এই প্রসঙ্গেই এক আধিকারিককে উদ্দেশ করে তিনি কটাক্ষ করেন, ‘আপনারা তো অভিনয়ে আমার থেকেও ভালো।’ অর্থাৎ, কাজের বাস্তব অগ্রগতির বদলে নানা ব্যাখ্যা ও অজুহাত দেওয়ার অভিযোগেই এই মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকের এই অংশের ভিডিয়ো পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কঙ্গনা আধিকারিকদের আরও বলেন, ‘শুধু আশ্বাস বা কথার ফুলঝুরি দিয়ে লাভ নেই। প্রকল্পের কাজ বাস্তবে কতটা এগিয়েছে, তার হিসাব দিতে হবে।’

    পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে কঙ্গনা আধিকারিকদের ‘অযোগ্য’ এবং ‘অলস’ বলেও আক্রমণ করেন। অন্য একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি তাঁদের ‘জালিয়াত’ বলেও কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল অভিযোগ ছিল— সরকারি অর্থ বরাদ্দ হওয়ার পরেও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ যে উন্নয়নমূলক সুবিধা পাওয়ার কথা, তা সময়মতো পাচ্ছেন না।

    কঙ্গনা স্পষ্ট করে দেন, ‘সরকারি টাকা কোনও ভাবেই অপচয় বা অকারণে আটকে রাখা যাবে না। যে উদ্দেশ্যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, সেই কাজেই তা ব্যবহার করতে হবে।’

    বৈঠকে কঙ্গনার আর একটি মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি ‘ইউজলেস জুমলা’ না দিয়ে বাস্তবে কাজ করার কথা বলেন। অর্থাৎ, শুধু প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস নয়, তিনি প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চান। তাঁর বক্তব্য, ‘কোনও প্রকল্পে সমস্যা থাকলে সেটি স্পষ্ট ভাবে জানাতে হবে। কোথায় জমি পাওয়া যাচ্ছে না, কোথায় অনুমোদন আটকে রয়েছে কিংবা কোন দপ্তরের কারণে কাজ এগোচ্ছে না—তার পরিষ্কার হিসাব দিতে হবে।’

    বৈঠকে উঠে আসে, বেশ কিছু প্রকল্প জমি পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার সমস্যায় আটকে রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জমি বা অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও টাকা তোলা হয়েছে বলেও কঙ্গনা অভিযোগ করেন। এই ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। কোনও প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে সেই বিষয়টিও দ্রুত জানাতে বলেন সাংসদ।

    বৈঠকে নিজের সাংসদ হিসেবে কাজ নিয়েও সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠার প্রসঙ্গ তোলেন কঙ্গনা। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম, তিনি উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ করলেও প্রশাসনিক স্তরে কাজের গতি না থাকলে তার দায় একা তাঁর উপর বর্তানো উচিত নয়। তাই প্রকল্পের অগ্রগতি এবং টাকা খরচের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলিরও সমান দায় রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করে দেন।

    ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর কঙ্গনার আধিকারিকদের সঙ্গে এই তীব্র বাদানুবাদ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে সাংসদের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও উন্নয়নমূলক কাজের গতি অত্যন্ত ধীর; অন্যদিকে প্রশাসনিক জটিলতা, জমি এবং অনুমোদনের মতো বিষয়গুলির কারণে বেশ কিছু প্রকল্প আটকে থাকার কথা সামনে এসেছে।

    ১. কঙ্গনা রানাউত কেন মান্ডির আধিকারিকদের উপর ক্ষুব্ধ হন?

    উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও তার মাত্র ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবি করেন কঙ্গনা। কাজের ধীর গতি নিয়ে তিনি আধিকারিকদের কাছে জবাবদিহি চান।

    ২. কঙ্গনা রানাউত কোন বৈঠকে আধিকারিকদের ভর্ৎসনা করেন?

    হিমাচল প্রদেশের মান্ডিতে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ কমিটি বা DISHA-র বৈঠকে তিনি আধিকারিকদের প্রশ্ন করেন।

    ৩. কঙ্গনা আধিকারিকদের কী বলে কটাক্ষ করেন?

    বৈঠকে তিনি আধিকারিকদের ‘Lazy’, ‘Incompetent’ এবং ‘Frauds’ বলে কটাক্ষ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক আধিকারিককে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো অভিনয়ে আমার থেকেও ভালো।’

    ৪. উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা খরচ না হওয়ার কারণ কী?

    বৈঠকে কিছু প্রকল্প জমি পাওয়া, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আটকে থাকার কথা উঠে আসে।

    ৫. কঙ্গনা সরকারি আধিকারিকদের কাছে কী দাবি করেন?

    তিনি প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি, কোথায় কাজ আটকে রয়েছে এবং কেন টাকা খরচ হচ্ছে না—তার বিস্তারিত হিসাব দিতে বলেন।

    ৬. কঙ্গনা কি নিজের সাংসদ হিসেবে কাজ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার প্রসঙ্গ তোলেন?

    হ্যাঁ। তিনি জানান, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ করার পরেও প্রশাসনিক স্তরে কাজের গতি না থাকলে তার দায় একা সাংসদের উপর বর্তানো উচিত নয়।

    ৭. কঙ্গনার বক্তব্যের ভিডিয়ো কি প্রকাশ্যে এসেছে?

    হ্যাঁ। বৈঠকে আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর তীব্র কথোপকথনের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)