পুলক বেরা, তমলুক
জরুরি বিভাগে রোগী এলে তড়িঘড়ি তাঁকে স্ট্রেচারে শুইয়ে নিয়ে যাওয়ার দস্তুর। হাসপাতালে এমন দৃশ্য দেখতেই সকলে অভ্যস্ত। কিন্তু, শনিবার সকালে তমলুকের তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দেখা গেল অন্য ছবি। স্ট্রেচার ছুটছে ঠিকই, তবে সেখানে কোনও রোগী নেই। রয়েছে থান ইটের স্তুপ।
স্ট্রেচারে রোগীর বদলে ইট কেন-সেই প্রশ্নে যখন হাসপাতালে তোলপাড় শুরু হয়েছে, ঠিক সেই সময়ে হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। তিনি অবশ্য তখন হাসপাতালের অন্য প্রান্তে ছিলেন। তবে ঘটনার কথা শুনে রীতিমতো ক্ষুব্ধ জেলাশাসক। তিনি বলেন, 'এটা মোটেই উচিত হয়নি। বিষয়টি জানার পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
হাসপাতাল ভবনের ভিতরে তখন থিকথিক করছে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের ভিড়। তাঁরা দেখেন এক যুবক 'সাইড দিন, সাইড দিন' বলে স্ট্রেচার নিয়ে দ্রুত পায়ে আসছেন। স্ট্রেচার দেখে তড়িঘড়ি পথ ছেড়ে দেন আশপাশের লোকজনও। কিন্তু কাছে আসতেই দেখা যায়, স্ট্রেচারে কোনও রোগী নেই, তার বদলে স্তূপ করে রাখা আছে ইট। এমন দৃশ্য দেখে কেই অবাক হয়ে যান। কেউ হাসিতে ফেটে পড়েন। কেউ আবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'সরকারি হাসপাতালে আরও যে কত কী দেখতে হবে।' বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অন্তর্বিভাগের দোতলায় একটি জানলা দিয়ে রোগীর পরিজনদের একাংশ নিয়মিত গুটখা ও পানের পিক ফেলতেন। সেই জানলা বন্ধ করার কাজ চলছিল। দোতলায় ইট নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছিল। তাই হাসপাতালেরই পুরোনো একটি স্ট্রেচারে উপরে ইট তোলা হচ্ছিল। যে যুবক স্টেচারে ইট নিয়ে যাচ্ছিলেন সেই রবীন্দ্র জানার কথায়, 'উপরে ইট তুলতে সমস্যা হচ্ছিল। তখন হাসপাতালের লোকজনই স্ট্রেচারে করে নিয়ে যেতে বলল। তাই স্ট্রেচারেই একসঙ্গে ২০-২৫টি করে ইট নিয়ে যাচ্ছিলাম।'
প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতাল কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠছিল। বিষয়টি জেলাশাসকের কানে যাওয়ার পরে এ দিন তিনি নিজেই হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছিলেন। তার মধ্যেই স্ট্রেচারে ইট নিয়ে যাওয়ায় হইচই শুরু হয়।