এই সময়, লালগড়: এলাকায় রয়েছে প্রায় ১২৫টি হাতি। অভিযোগ, খাবারের সন্ধানে তারা নেমে পড়ছে ফসলের খেতে। এতে ভুগতে হচ্ছে চাষিদের। তাই ফসল বাঁচাতে ধামসা-মাদল বাজিয়ে, মশাল জ্বালিয়ে ফসল পাহাড়া দিচ্ছেন চাষিরা। মেদিনীপুর বন বিভাগের লালগড় রেঞ্জের ভাউদি বিটের আজনাশুলি গ্রামে কয়েক দিন ধরে এ ভাবে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত পাহারা দিয়ে হাতির দলকে রুখতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা।
ছয়-সাত দিন আগে খড়াপুর বন বিভাগের কলাইকুণ্ডা রেঞ্জ থেকে প্রায় ১২০ থেকে ১২৫টি হাতি কংসাবতী নদী পেরিয়ে চাঁদড়া রেঞ্জ হয়ে ঢুকে পড়ে লালগড় রেঞ্জের আজনাশুলি এলাকায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, হাতির দলটি দিনে জঙ্গলে থাকলেও রাত হলে খাবারের সন্ধানে চাষের জমিতে হানা দিচ্ছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, লালগড় রেঞ্জের ভাউদি বিটের লক্ষ্মণপুর, বনিশোল, চালপুড়ার জঙ্গলে হাতির দলটি রয়েছে। অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলে এই সব এলাকায় হাতির দল তাণ্ডব চালাচ্ছে। হাতি তাড়ানোর জন্য বন দপ্তরে জানিয়েও কোনও লাভহয়নি। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে পোড়া মোবিল জোগাড় করে মশাল বানিয়ে জ্বালিয়েছেন। সঙ্গে ঘরে থাকা ধামসা, মাদল বাজিয়ে হাতিকে এলাকা ছাড়া করার কাজে নেমেছেন। আজনাশুলি গ্রামের বাসিন্দা মনোজ মাহাতো বলেন, 'একশোর বেশি হাতি রয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই চাষের জমিতে নেমে সব নষ্ট করে দিচ্ছে। বন দপ্তর হাতি তাড়ানোর কোনও পদক্ষেপ করছে না। তাই নিজেরাই হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছি। যেটুকু ফসল বেঁচে আছে তা যেন রক্ষা করতে পারি।' তাঁর দাবি, আজনাশুলি, লক্ষ্মণপুর, মধ্যমকুমারী-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় শতাধিক চাষির ২০০ থেকে ২৫০ বিঘা ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
চাষিদের এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে প্রাক্তন বনকর্তা তথা হাতি বিশেষজ্ঞ সমীর মজুমদার বলেন, 'হাতি দীর্ঘদিন ধরে বাজি-পটকার আওয়াজ শুনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। তার ভিতরের ভয় কিছুটা হলেও কমেছে। সে জায়গায় বাজনার আওয়াজ হাতির কাছে একেবারেই নতুন। হাতি কুড়ি কম্পাঙ্কের কম শব্দ শুনতে পারে। হাতির বড় কানের কারণে এই বাজনার আওয়াজে বিরক্ত হয়ে অন্য পথে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আগুনকে হাতি সবসময় ভয় পায়। হাতির ক্ষতি না করে হাতিকে অন্য মুখে পাঠানোর চাষিদের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সাধুবাদ যোগ্য।'
কয়েক দিন আগে পর্যন্ত লালগড় রেঞ্জে ১২৯টি হাতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। শুক্রবার রাতে ৩০টি হাতি গোয়ালতোড় রেঞ্জে চলে যাওয়ায় ৯৯টি হাতি আজনাশুলি এবং কামরাঙ্গির জঙ্গল-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। বন দপ্তরের দাবি, তিন থেকে চারটি দল একত্রিত হওয়ায় এত সংখ্যক হাতি লালগড় রেঞ্জে একসঙ্গে রয়েছে। হাতির দলটিতে প্রায় কুড়িটি শাবক রয়েছে। দু'মাস বয়সেরও বেশ কয়েকটি শাবক রয়েছে। বন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, 'হাতির গতিবিধির উপরে প্রতিনিয়ত নজরদারি চলছে। তবে বর্ষায় হাতির দলটিতে শাবক থাকায় জোরপূর্বক ড্রাইভ করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, শাবকগুলির কাদায় পা আটকে যেতে পারে। তাই ড্রাইভ বন্ধ রেখে স্বাভাবিক ভাবে হাতির দলকে অন্যত্র সরানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।' হাতির হানায় যে সমস্ত চাষির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তাঁরা আবেদন জানালে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বন দপ্তর।