এই সময়: বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির প্রচারের মূল হাতিয়ারই ছিল–তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গ ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ হয়ে যাবে। বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের চার মাসের মাথায় ফের একবার সে কথা স্মরণ করালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার উত্তর কলকাতায় মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে জাগরণ ঘটেছে। সেই জাগরণকে ধরে রাখার দায়িত্ব আপনাদের সবার। অনেক কিছু পাওয়ার আনন্দ থাকবে। অনেক কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা থাকবে। অনেক কিছু সাময়িক না পাওয়ার অভিমানও থাকতে পারে। কিন্তু সর্বোপরি আমরা পশ্চিমবঙ্গকে গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরির চক্রান্ত থেকে রুখে দিতে পেরেছি।’
যদিও বিজেপি এবং আরএসএসের বৌদ্ধিক শিবিরের মতে, শুধু রাজনৈতিক ভাবে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ তৈরির চক্রান্ত রোখা যাবে না। দেশবিরোধী শক্তিকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে হলে ভারতীয় সংস্কৃতির বিস্তারও ঘটাতে হবে। আর সেই সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে রাজ্য সরকারও একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা ব্যাখ্যা করতে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় পর্যটন বাড়ানোর জন্য আমরা বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি জানান, এ রাজ্যে ‘ট্যুরিজম সার্কিট’ তৈরি হচ্ছে। সেই ‘সার্কিট’ ঠিক কী রকম হবে তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভেন্দুর সংযোজন, ‘কোচবিহারের মদনমোহন বাড়ি থেকে কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, মায়াপুর, ঠাকুরনগর, ঠাকুরধাম, তারাপীঠ হয়ে তারকেশ্বর ধাম পর্যন্ত আমরা তীর্থক্ষেত্র সার্কিট বানাব। যাতে ভক্তরা আরও বেশি করে তীর্থক্ষেত্রে যান, সেই ব্যবস্থা করব।’
মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন, বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে যে ভাবে ধর্মীয়স্থানগুলিকে সাজানো হয়েছে, বাংলাতেও সেরকম কিছু করতে। এ প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘কাশী, বেনারস, উজ্জয়িনী মহাকাল ধীরে ধীরে সেজে উঠেছে। আদিগুরু শঙ্করাচার্যের চারধামের একধাম সেজে উঠেছে। ঠিক একই ভাবে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয়স্থানগুলি সেজে উঠবে। উন্নয়ন, শিল্পায়নের পাশাপাশি এই কাজগুলিও সরকার করবে।’ এ দিন মুখ্যমন্ত্রী ফের একবার জানান, গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলায় পরিণত করা হবে। তৃণমূল জমানায় হিন্দুদের ধর্মাচরণে কী ভাবে বাধা দেওয়া হতো, সে কথাও এ দিন উত্তর কলকাতার অনুষ্ঠান থেকে মনে করান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে দুর্গাপুজো করতে গেলে হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হতো। রামনবমীর শোভাযাত্রা করতে গেলে পাথর খেতে হতো। হনুমান চালিশা পাঠ করা যেতো না। শুধু আমরা নই, গেরুয়া বসন পরা সন্ন্যাসীরাও আক্রান্ত হয়েছেন। অনেক সংগ্রাম, অনেক লড়াই, অনেক স্বপ্নপূরণ করেছেন আপনারা।’ এরপরেই শুভেন্দুর সংযোজন, ‘দেশের মধ্যে থাকা শত্রুরা যাতে দেশকেই দুর্বল করতে না পারে, সেটাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’ তাঁর কথায়, ‘সরকার রথযাত্রায় অংশ নিয়েছে। কারণ, এটা শুধু ধর্ম নয়। ভারতীয় সংস্কৃতি।’ বিজেপির এক তাত্ত্বিক নেতা বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘দেশের মধ্যে থাকা দেশের শত্রুদের রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ভাবেও কোণঠাসা করতে হবে। সে কারণেই প্রয়োজন, ভারতীয় হিন্দু সংস্কৃতির আরও বেশি প্রচার। যাতে দিমাগী নকশালরা নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত না করতে পারেন।’