প্রশান্ত ঘোষ, ভাঙড়
প্রতিমার বায়না হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্যান্ডেল, আলো, মণ্ডপসজ্জার অর্ডার আটকে! কারণ একটাই-এ বার সরকারি অনুদান কত? গত বছর যে পুজো কমিটির হাতে এসেছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, এ বার সেই টাকা মিলবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ফলে পুজোর দেড় মাস আগে থেকেই দুশ্চিন্তায় ভাঙড়, রাজারহাট-সহ শহরতলির ছোট পুজোর উদ্যোক্তারা।
সরকারি অনুদানের অঙ্ক গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক ভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালে ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু। পরের বছর ২৫ হাজার। ২০২০ ও ২০২১-এ ৫০ হাজার। ২০২২-এ সালে ১০ হাজার করে বেড়ে যত্রাক্রমে ৬০ ও ৭০ হাজার টাকা। ২০২৪ সালে ছিল ৮৫ হাজার টাকা। আর ২০২৫-এ এক লাফে অনুদান বেড়ে হয় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।
এই টাকাই মফস্বলের বহু পুজো কমিটির 'অক্সিজেন'। কারণ ভাঙড়, রাজারহাট, জীবনতলা এলাকার অধিকাংশ ছোট পুজোর বাজেট ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে। গ্রামের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকায় চাঁদা তুলে পুরো বাজেট জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব। তাই সরকারি অনুদানের অঙ্ক না জানা পর্যন্ত বাজেটের হিসেবই মেলাতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। এরই মধ্যে বড় বাজেটের পুজো নিয়ে সরকারের
তরফে নতুন নিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে। ১০ লক্ষ টাকার বেশি বাজেটের পুজো কমিটিগুলি অনুদান থেকে বাদ পড়তে পারে-এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে ছোট পুজোগুলির মধ্যে অনুদানের অঙ্ক এবং যোগ্যতার নিয়ম নিয়ে ধন্দ দেখা দিয়েছে। কাশীপুরের শতধারা প্রমীলা সঙ্ঘ প্রায় এক দশক ধরে পুজোর আয়োজন করে আসছে। কমিটির সভাপতি পাপিয়া চক্রবর্তীর কথায়, 'প্রতিমার অর্ডার দেওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্যান্ডেল, আলো এখনও ঠিক করতে পারিনি। গরিব এলাকায় চাঁদা খুব বেশি ওঠে না। সরকারি অনুদান আমাদের কাছে বড় ভরসা।' খয়েরপুর সৎসঙ্গ অনুশীল কেন্দ্র পুজো কমিটির কর্তা দিলীপ কর্মকারও বলেন, 'গত বছর ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। সেই টাকায় পুজোটা ভালো ভাবে করা সম্ভব হয়েছিল। এ বার কত টাকা পাব, সেটাই জানি না।'
রাজারহাট থানা এলাকায় এ বছর ৬৯টি অনুমোদিত পুজো হচ্ছে। ভাঙড়-১ ব্লকের ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে অনুমোদিত পুজো ৯৮টি। ভাঙড়-২ ব্লকের কাশীপুর থানা এলাকায় ২৭টি এবং লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকায় ২৩টি পুজোর অনুমতি রয়েছে। ভাঙড়ের দু'টি ব্লকের পুজো সমন্বয় কমিটির সম্পাদক কৌশিক সর্দারের বক্তব্য, 'আশা করছি, গতবারের মতো এ বারও সহজে অনলাইনে অনুমতি মিলবে।'