এই সময়, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গ আর ত্রিপুরায় সিপিএম ক্ষমতা হারিয়েছিল আগেই৷ সাড়ে তিন মাস আগে হাতছাড়া হয়েছে কেরালাও৷ এই আবহে কোন পথে, কী ভাবে দল পায়ের তলার হারানো মাটি পুনরুদ্ধার করতে পারে— তার রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে মরিয়া সিপিএম নেতৃত্ব৷ শুক্র ও শনিবার— দু’দিন দিল্লিতে দলের পলিটব্যুরোর বৈঠকে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে৷ দলীয় সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের মতো সিপিএমও এ বার চাইছে, জেন জ়ি প্রজন্মের পড়ুয়াদের মধ্যে প্রভাব বাড়িয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে পায়ের তলার জমি শক্ত করতে৷ দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘নিট’–প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সিজেপির আন্দোলনকে পরোক্ষে সমর্থন জানিয়ে পড়ুয়াদের পাশে থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘ছাত্রো কী গুঞ্জ’ সমাবেশ করছে কংগ্রেস৷ কংগ্রেস হাইকম্যান্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দিনে দেশের ছোট–বড় ১০০টি শহরে এই ধরনের সমাবেশের আয়োজন করবে দল৷
এ বার সেই পথে ছাত্র এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাকে হাতিয়ার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সর্বাত্মক আন্দোলনে নামা যায় কী ভাবে, সেই বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন সিপিএম শীর্ষ নেতৃত্ব৷ দিল্লিতে পলিটব্যুরোর বৈঠকের ফাঁকে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি বলেন, ‘দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের আন্দোলনের সাফল্যে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি৷ চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরও প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে সরকার৷ এই ঘটনা বিজেপির পিছু হটার প্রমাণ৷ দেশের ছাত্র এবং যুবসমাজ বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা বিজেপিকে ভয় পায় না৷ ফলে দেশে এক নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে৷’
দিল্লিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, বেবির কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে দলের অবস্থান, যেখানে দেশের সর্বত্র সক্রিয় ভাবে জেন জি়র পাশে থেকে এগোনোর পরিকল্পনা করছে দল৷ পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষ নিয়েও দু’দিনের পলিটব্যুরো বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি৷