• দহিহান্ডি উৎসবে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ৭ বছরের শিশু-সহ ২ জনের মৃত্যু, আহত ২১২
    এই সময় | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মহারাষ্ট্র জুড়ে দহিহান্ডি উৎসব পালনের মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। উৎসব চলাকালীন ভেঙে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো দু’জনের। মুম্বইয়ে ইটের স্তম্ভ ভেঙে পড়ে প্রাণ গেল ৭ বছরের এক শিশুর। অন্য দিকে, পুনেতে দহিহান্ডির অনুষ্ঠানের পরে একটি অস্থায়ী লোহার কাঠামো ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। পাশাপাশি মুম্বই ও ঠানেতে মানব-পিরামিড তৈরি করতে গিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ২১২ জন।

    মুম্বইয়ের মালবাণীর চিকুওয়াড়িতে একতা ওয়েলফেয়ার সোসাইটিতে শুক্রবার বিকেল ৩টে নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। কয়েক জন শিশু নিজেরাই সেখানে দহিহান্ডি উদ্‌যাপন করছিল। হান্ডি ধরে রাখা দড়ির এক প্রান্ত গাছের সঙ্গে এবং অন্য প্রান্ত একটি একতলা বাড়ির ইটের স্তম্ভের সঙ্গে বাঁধা হয়েছিল। শিশুরা হান্ডি ভাঙার চেষ্টা করতেই আচমকা স্তম্ভটি ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে ৭ বছরের রুদ্র কদম। মাথায় গুরুতর আঘাত পায় সে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    অন্য দুর্ঘটনাটি ঘটে, পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের ওল্ড সাঙ্গভি এলাকায়। দহিহান্ডির অনুষ্ঠানে লাউডস্পিকার রাখার জন্য তৈরি করা অস্থায়ী লোহার কাঠামোটি অনুষ্ঠান শেষে শ্রমিকেরা খুলছিলেন। সেই সময় কাঠামোর ভারী একটি অংশ ৪৫ বছরের সালমা সালাউদ্দিন পাঠানের উপর পড়ে। গুরুতর মাথায় আঘাত নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সালমার ছেলে সংশ্লিষ্ট দহিহান্ডি মণ্ডলের পদাধিকারী। পরিবার আয়োজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে চায়নি। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর রিপোর্ট নথিভুক্ত করে তদন্ত চলছে।

    এদিকে মুম্বইয়ে মানব-পিরামিড তৈরির সময়ে আহত হয়েছেন ১৬৮ জন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি, ৮১ জনের চিকিৎসা চলছে এবং ৫৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। KEM হাসপাতালে ৩৩ জন, রাজাওয়াড়ি হাসপাতালে ২০ জন এবং নায়ার হাসপাতালে ১৭ জন আহত ভক্তকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঠানেতে আরও ৪৪ জন আহত হন।

    ১. দহিহান্ডি উৎসবে কত জনের মৃত্যু হয়েছে?

    মহারাষ্ট্রে দহিহান্ডি উৎসব চলাকালীন পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৭ বছরের এক শিশু এবং ৪৫ বছরের এক মহিলা।

    ২. মুম্বইয়ে কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটে?

    মুম্বইয়ের মালবাণীর চিকুওয়াড়িতে দহিহান্ডি উদ্‌যাপনের সময় একটি বাড়ির ইটের স্তম্ভে হান্ডি ধরে রাখা দড়ির এক প্রান্ত বাঁধা ছিল। শিশুরা হান্ডি ভাঙার চেষ্টা করার সময় আচমকা স্তম্ভটি ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে ৭ বছরের রুদ্র কদমের মৃত্যু হয়।

    ৩. পুনেতে কী ভাবে মহিলার মৃত্যু হয়?

    পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের ওল্ড সাঙ্গভি এলাকায় দহিহান্ডির অনুষ্ঠান শেষে লাউডস্পিকার রাখার জন্য তৈরি অস্থায়ী লোহার কাঠামো খুলছিলেন শ্রমিকেরা। সেই সময় কাঠামোর ভারী একটি অংশ ৪৫ বছরের সালমা সালাউদ্দিন পাঠানের উপর পড়ে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

    ৪. দহিহান্ডি উৎসবে মোট কত জন আহত হয়েছেন?

    মুম্বই ও ঠানেতে মানব-পিরামিড তৈরির সময় মোট ২১২ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মুম্বইয়ে ১৬৮ জন এবং ঠানেতে ৪৪ জন আহত হন।

    ৫. মুম্বইয়ে আহত গোবিন্দাদের কত জন হাসপাতালে ভর্তি?

    সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুম্বইয়ে আহত ১৬৮ জনের মধ্যে ২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ৮১ জনের চিকিৎসা চলছিল এবং ৫৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    ৬. মুম্বইয়ের কোন কোন হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা হয়েছে?

    KEM হাসপাতালে ৩৩ জন, রাজাওয়াড়ি হাসপাতালে ২০ জন এবং নায়ার হাসপাতালে ১৭ জন আহত গোবিন্দার চিকিৎসা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

    ৭. পুনের মৃত মহিলার পরিবারের প্রতিক্রিয়া কী?

    পুলিশ জানিয়েছে, মৃত সালমা সালাউদ্দিন পাঠানের ছেলে সংশ্লিষ্ট দহিহান্ডি মণ্ডলের পদাধিকারী। পরিবার আয়োজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে চায়নি। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর রিপোর্ট নথিভুক্ত করে তদন্ত চলছে।

    ৮. দহিহান্ডি উৎসবে এত মানুষ কী ভাবে আহত হন?

    দহিহান্ডিতে গোবিন্দারা একে অপরের উপর উঠে মানব-পিরামিড তৈরি করে উঁচুতে ঝোলানো হান্ডি ভাঙার চেষ্টা করেন। সেই সময় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঘটনা ঘটে। এবারের উৎসবেও মুম্বই ও ঠানেতে বহু জন আহত হয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)