এই সময়, ফরাক্কা: প্রায় ৬৫ ঘণ্টা পরে পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে বলে রেল দাবি করল ঠিকই, তবে শনিবারও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা গেল না ফরাক্কায় ধূমিধসে রেল যোগাযোগের সমস্যা। কারণ এ দিনও বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ বদলের কথা জানিয়েছে পূর্ব রেল। ১৪টি ট্রেনকে শনিবার অপারেশনাল কারণে বিকল্প রুটে চালানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটি করে ট্রেন নলহাটি–আজিমগঞ্জ–নিউ ফরাক্কা, তিলডাঙা–বল্লালপুর–নিউ ফরাক্কা হয়ে এবং চারটি ট্রেন ব্যান্ডেল–কাটোয়া–আজিমগঞ্জ হয়ে চলাচল করে বলে খবর। তবে শনিবার সন্ধের পর থেকে ওই লাইনে কোনও ট্রেন বাতিলের কথা জানায়নি রেল। তবে সতর্কতা হিসেবে প্রাথমিক ভাবে গতি কমই ছিল এ দিন।
আজ, রবিবার পরিষেবা স্বাভাবিক হবে কি না, কোনও ট্রেন ক্যান্সেল বা তার রুট বদলাবে কি না, তা নিয়ে শনিবার রাত পর্যন্ত রেলের তরফে স্পষ্ট নির্দেশিকা সামনে আসেনি। তবে আজ ডাউন ট্রেন স্বাভাবিক ভাবে চলবে বলে রেলের একটি সূত্রের দাবি।
ক্ষতিগ্রস্ত লাইনে নতুন করে ট্র্যাক পাতা, অ্যালাইনমেন্ট এবং ট্যাম্পিংয়ের কাজ শেষে এ দিন ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। কিন্তু গত ক’দিন ধরে যাত্রীদের যে হয়রানি চলছে, এ দিন তা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায়নি। কন্যাকুমারী–ডিব্রুগড় বিবেক এক্সপ্রেস, হাওড়া–মালদা টাউন ইন্টারসিটি এবং সেকেন্দ্রাবাদ–নাহারলাগুন এক্সপ্রেস, দিল্লি–কামাখ্যা ব্রহ্মপুত্র মেল, লোকমান্য তিলক টার্মিনাস–গুয়াহাটি এক্সপ্রেস, হাওড়া–গুয়াহাটি সরাইঘাট এক্সপ্রেস এবং হাওড়া–নিউ জলপাইগুড়ি শতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো ট্রেন ঘুরপথে চালানোয় সময় বেশি লাগে। এই তালিকায় রয়েছে কাঞ্চনকন্যা, গৌড়, দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেসও। ফলে উত্তরবঙ্গ ও অসমের যাত্রীরা আটকে না পড়লেও ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছন। ট্রেনগুলির স্টপ ও যাত্রার সময়সূচিতে বদলের কথাও যাত্রীদেরই যাচাই করে নিতে বলা হয়েছে।
প্যাসেঞ্জারদের বড় অংশের বক্তব্য — তিন দিন পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলো না। তার উপরে যাত্রীদেরই যদি সব তথ্য যাচাই করতে হয়, তা হলে রেল কী করল!
রেল অবশ্য এ দিন জানিয়েছে, চূড়ান্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ওভারহেড ইক্যুইপমেন্টের কাজ শেষ করে সন্ধের মধ্যে স্বাভাবিক পরিষেবা চালুর টার্গেট নেওয়া হয়েছিল। সেই লক্ষ্যপূরণে সকাল থেকে কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতির কাজ শুরু হয়। বিকেলের মধ্যে ধসে যাওয়া অংশে নতুন করে লাইন বসানোর পাশাপাশি ট্র্যাককে নির্দিষ্ট উচ্চতায় ফিরিয়ে ‘অ্যালাইনমেন্ট’ পরীক্ষার পরে সংশ্লিষ্ট যন্ত্র দিয়ে লাইনের নীচের অংশ পোক্ত করা হয়। পরে ওভারহেড তারের চূড়ান্ত পরীক্ষা সেরে ফেলেন রেলকর্মীরা।
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে এ দিন জানান, ট্র্যাক ফিট হয়ে গিয়েছে। পাওয়ার ব্লক নিয়ে কিছু চেকিংয়ের পরে মালগাড়ির ইঞ্জিন চালিয়ে ট্র্যাকের নিরাপত্তা দেখে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘রেলের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনেই পরিষেবা চালু হবে। প্রথম দিকে সাবধানতা বজায় রেখে পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্রেনের গতি নির্ধারিত হবে।’ পূর্ব রেলের সিপিআরও শিবরাম মাঝি জানান, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ট্রেন নির্ঘণ্ট মেনেই চলবে। তবে কিছু আপ ট্রেন বাতিল থাকার কারণে ডাউনে সেই ট্রেনগুলি স্বাভাবিক ভাবে আসবে না। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, এ দিন সন্ধেয় একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সূচিতে চলেছে। দক্ষিণ থেকে উত্তরবঙ্গগামী তো বটেই, উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের দিকেও পরিষেবা স্বাভাবিক করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।