• Nepal Flash Flood: ১০ দিন পেরিয়েছে, ফেরেননি শর্মিষ্ঠা, ছন্দহারা রায় পরিবার
    এই সময় | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • অশীন বিশ্বাস, কাঁচরাপাড়া

    বাড়িটা একই আছে। আগের মতো না হলেও লোকজনের আনাগোনাও কমেনি। রাজনৈতিক পরিবারের দরজা এখনও খোলা। কিন্তু বদলে গিয়েছে ঘরের ভিতরের ছবিটা। যে মা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুই সন্তানকে ঘিরে ব্যস্ত থাকতেন এবং নিজের মতো করে পারিবারিক ব্যবসা সামলাতেন তাঁর জায়গাটা এখন ফাঁকা। বারবার মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করছে দশ বছরের ছেলে। দিদির কাছ থেকে সান্ত্বনা পেলেও কিছুক্ষণ পরেই বাবার কাছে তার প্রশ্ন, 'মায়ের কোনও খবর পাওয়া গেল?' উত্তর নেই। শুধু অপেক্ষাতেই দিন গুনছে কাঁচরাপাড়ার রায় পরিবার।

    ১০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। নেপালে হড়পা বানের পর থেকে নিখোঁজ শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা রায় ভৌমিকের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। যত দিন যাচ্ছে, ততই বাড়ছে উৎকণ্ঠা। কাঁচরাপাড়ার ঘটক রোডের বাড়িতে এখন শর্মিষ্ঠার ফেরার প্রতীক্ষায় পরিবার পরিজনরা। ছেলে-মেয়ে, স্বামী, মা—সকলেরই এক প্রার্থনা, সুস্থ শরীরে দ্রুত বাড়ি ফিরুন শর্মিষ্ঠা।

    রাজনৈতিক পরিবারে বিয়ে হলেও রাজনীতির ভিড়ভাট্টা খুব একটা পছন্দ করতেন না শর্মিষ্ঠা। তাঁর শ্বশুর প্রয়াত মুকুল রায় ছিলেন বঙ্গ রাজনীতির অত্যন্ত পরিচিত মুখ, প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। স্বামী শুভ্রাংশুও বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক। ফলে বাড়িতে মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকত। সেই ব্যস্ততার বাইরে শর্মিষ্ঠা ভালোবাসতেন নিজের মতো করে সময় কাটাতে ও বেড়াতে যেতে।

    দুই সন্তানের পড়াশোনা, স্কুল, কোচিং থেকে মেয়েকে নাচের স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসা—সংসারের এই যাবতীয় দায়িত্ব প্রায় একাই সামলাতেন শর্মিষ্ঠা। তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে বাড়ির দৈনন্দিন ছন্দটাই যেন থমকে গিয়েছে। একাদশ শ্রেণির ছাত্রী বছর ষোলোর মেয়ে নিজেকে শক্ত রেখে ছোট ভাইকে সামলাচ্ছে। ভাইয়ের প্রশ্নের সামনে বারবার অসহায় হয়ে পড়ছে সে-ও।

    মায়ের অনুপস্থিতিতে দুই সন্তানকে আগলে রেখেছেন শুভ্রাংশু এবং শর্মিষ্ঠার মা। মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে বেলঘরিয়ার বাড়ি ছেড়ে কাঁচরাপাড়ায় এসে রয়েছেন শর্মিষ্ঠার বৃদ্ধা মা। ছোটবেলা থেকে মুকুল রায়ের বাড়িতে মানুষ হওয়া মেদিনীপুরের রীনা দে-ও এখন দুই সন্তানের দেখভালে পাশে রয়েছেন।

    গত ২১ অগস্ট ৩২ জনের একটি দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। সেখানে পৌঁছে নিয়মিতই স্বামী, ছেলে-মেয়ে এবং মায়ের সঙ্গে ফোন ও ভিডিয়ো কলে কথা বলেছেন। কিন্তু হড়পা বানের পর আচমকাই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কল্যাণীর একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার সূত্রে শর্মিষ্ঠার সঙ্গে শুভ্রাংশুর পরিচয়। পরে প্রেম এবং ২০০৯ সাল নাগাদ বিয়ে। তাঁদের দুই সন্তান ব্যান্ডেলের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ে। পরিবারের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, পলিক্লিনিক ও চক্ষু পরীক্ষা কেন্দ্রের ব্যবসার দেখভাল মূলত করতেন শর্মিষ্ঠাই। ব্যস্ততার মাঝে এই প্রথম নয়, আগেও কখনও একা, কখনও সন্তানদের নিয়ে, কখনও পরিজনদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছেন তিনি। দেড় বছর আগে দুই সন্তানকে নিয়ে লাদাখ ঘুরে এসেছিলেন। নেপাল থেকে ফিরে পুজোর ছুটিতে সন্তানদের নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল।

  • Link to this news (এই সময়)