প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য বেলজিয়াম থেকে এসেছিল এক অভিনব উপহার। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডে ওয়েভার মোদীর জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি করিয়েছিলেন দিল্লির ‘ইন্ডিয়া গেট’-এর একটি প্রতিকৃতি। মডেলটি তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণ বেলজিয়ান চকলেট দিয়ে। কিন্তু ভারতে পৌঁছনোর আগেই সেই বিশেষ উপহারটি ভেঙে যায়। বিষয়টি নিজেই মজার ছলে জানিয়েছেন ডে ওয়েভার।
মোদীর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চকলেট কূটনীতির জন্য দুর্দান্ত, কিন্তু কূটনৈতিক সফরের জন্য ততটা নয়।’ আসল ইন্ডিয়া গেট প্রায় এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে অটুট ভাবে দিল্লির বুকে দাঁড়িয়ে থাকলেও তার চকলেটের তৈরি প্রতিকৃতিটি তেমন মজবুত হয়নি। বেলজিয়াম থেকে ভারত পর্যন্ত যাত্রা ইন্ডিয়া গেট-এর চকলেট মডেল সহ্য করতে পারেনি বলেও রসিকতা করেন ডে ওয়েভার।
তবে এই বিশেষ উপহার মোদী হাতে তুলে দেওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা মাটি হলেও হার মানতে নারাজ বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। ডে ওয়েভার জানান, একই প্রতিকৃতির একটি ‘ব্যাকআপ’ সংস্করণ এখনও বেলজিয়ামে রয়েছে। সেটি কোনও ভাবে নিরাপদে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
শুধু ভারতের অন্যতম পরিচিত স্থাপত্য বলেই ইন্ডিয়া গেটকে উপহার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়নি। এর পিছনে রয়েছে ভারত-বেলজিয়ামের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বার্তাও। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে ভারতীয় সেনারা লড়াই করেছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মৃতিই চকলেটের প্রতিকৃতিতে তুলে ধরা হয়েছিল।
ডে ওয়েভার জানান, চকলেটের ইন্ডিয়া গেটে সেই স্মৃতিফলকের একটি অংশ বিশেষ ভাবে বড় করে তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁর কথায়, এক শতাব্দীরও বেশি আগে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ভারতীয় সেনারা বেলজিয়ামের মাটিতে যুদ্ধ করেছিলেন। তাঁদের সাহস ও আত্মত্যাগ ভারত ও বেলজিয়ামের ‘অভিন্ন ইতিহাসের অংশ।’
চকলেটের উপহারটি শেষ পর্যন্ত অক্ষত অবস্থায় মোদীর হাতে পৌঁছতে না পারলেও, অভিনব এই ‘চকলেট ডিপ্লোম্যাসি’ ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্কের আলোচনায় ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে।