• ব্ল্যাকবোর্ড থেকে ব্লাডব্যাঙ্ক—মানবতার পাঠ দিচ্ছেন শিক্ষক সুদীপ খাঁড়া
    এই সময় | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সমীর মণ্ডল, মেদিনীপুর

    ক্লাসরুমের বাইরে সামাজিক দায়বদ্ধতার পাঠ দেন মেদিনীপুর সদর ব্লকের চুয়াডাঙ্গা উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক সুদীপকুমার খাঁড়া। কখনও মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্ত জোগাড়, কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ সংগ্রহ — সব কিছুতে হাত বাড়ালেই বন্ধু এই শিক্ষক। আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েরা টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না জানতে পারলে তাদের জন্য টিউশনের ব্যবস্থা করে দেন। কখনও আবার ছাত্রের জন্য বই জোগাড় করতে ছুটে যান হুগলি জেলায়। আবার এক ছাত্রের স্কলারশিপের ব্যবস্থা করতে গিয়ে রেল পুলিশের হেফাজতে দু’ঘণ্টা কাটানোর ঘটনাও রয়েছে তাঁর জীবনে। সেই ছাত্র আজ চিকিৎসক- যা শিক্ষক সুদীপের কাছে বড় প্রাপ্তি। বিপদের দিনে ছাত্রদের ‘মুশকিল আসান’ এই শিক্ষক।

    মেদিনীপুর কুইজ় কেন্দ্রের অন্যতম সদস্য হিসেবে উদয়পল্লির রেলকলোনিতে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের নিয়ে চালাচ্ছেন ‘মস্তি কি পাঠশালা’। ঘাটাল হোক বা অসম — ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ছুটে গিয়েছেন বন্যাদুর্গতদের কাছে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা অনির্বাণ দাস বলেন, ‘সুদীপদাকে দেখেছি, কোনও প্রচার ছাড়াই মানুষের পাশে দাঁড়াতে। এমন শিক্ষক সমাজের সম্পদ।’ আর এক বাসিন্দা মধুমিতা ঘোষের কথায়, ‘শিক্ষক হিসেবে তিনি ছাত্রদের পড়ান, কিন্তু তার বাইরেও যে এত মানুষের জন্য কাজ করেন, সেটাই তাঁকে আলাদা করে চেনায়। নিজের কথা না ভেবে অন্যের বিপদে ছুটে যাওয়া সত্যিই অনুপ্রেরণা জোগায়।’

    মেদিনীপুরের মাদ্রাসার শিক্ষক নরসিংহ দাস বলেন, ‘একজন শিক্ষকের ভূমিকা শুধু ব্ল্যাকবোর্ড আর বইয়ের পাতায় আটকে থাকে না। কখনও রক্তের পাউচ হাতে, কখনও ত্রাণের সামগ্রী নিয়ে, কখনও অসহায় ছাত্রের পাশে দাঁড়িয়ে একজন শিক্ষক সমাজেরও পথপ্রদর্শক হয়ে উঠতে পারেন। তাই মেদিনীপুরের বহু মানুষের কাছে সুদীপ খাঁড়া শুধু একজন শিক্ষক নন, বিপদের বন্ধু।’

    তাঁর এই সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিও এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে। কোভিডের সময় ‘কোভিড যোদ্ধা সম্মাননা’ এবং কলকাতার আলো ট্রাস্টের ‘মানব রত্ন ২০১৯’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘মানুষ হয়ে জন্মে মানুষের জন্য কিছু কাজই যদি না করলাম, তাহলে করলামটা কী! কেউ বিপদে পড়লে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।’

  • Link to this news (এই সময়)