এই সময়, শিলিগুড়ি: এতদিন শিলিগুড়ি সেন্ট্রাল কলোনির দুর্গাপুজো হতো রেলের ইনস্টিটিউট মাঠে। কিন্তু সেখানে স্টেডিয়াম তৈরি হওয়ায় এ বছর আদৌ পুজো হবে কিনা তা নিয়ে জল্পনা চলছিল শহরে। পুজোর অনিশ্চয়তাকে বাই বাই করে এ বার বরং সেরা চমক দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো কমিটির সদস্যরা।
কী সেই চমক? জানা গিয়েছে, দুর্গা প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হতে পারে প্রায় ১০০ কেজি সোনা। তবে এখনই পুজোর আয়োজন নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ আয়োজকরা। যদি সত্যিই সোনায় মোড়া প্রতিমা এবং মণ্ডপ হয়, তার নিরাপত্তা কী ভাবে নিশ্চিত করা হবে? পুজোর স্থান বদলে যাওয়ায় বিপুল ভিড় হলে তার চাপ কী ভাবে সামলানো হবে, তা নিয়েও চিন্তা রয়েছে ক্লাবকর্তাদের। যদিও আয়োজকদের দাবি, বেসরকারি ভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য জয় রাজ বলেন, ‘বিশেষ কিছু বিষয় রয়েছে। এখনই এ সব নিয়ে কিছু বলা যাবে না। ১৫ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।’
সেন্ট্রাল কলোনির পুজো এ বার ৬৪তম বর্ষে পড়েছে। এতদিন রেলের ইনস্টিটিউট মাঠে হয়ে এসেছে এই পুজো। কিন্তু সম্প্রতি রেলের তরফে সেখানে আধুনিক স্টেডিয়াম গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ফলে গত বছর পুজোর পরে এ বার পুজো বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে, শহরে কানাঘুষো শুরু হয়। নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করে এনজেপি থানার উল্টো দিকে, এডিআরএম অফিসের পাশে ফাঁকা মাঠে এক মাস আগে খুঁটিপুজো করা হয়। নতুন ঠিকানায় পুজোর আয়োজনের পাশাপাশি উদ্যোক্তারা তখনই জানিয়েছিলেন, এ বারের পুজোয় বড় চমক থাকবে! একশো কেজি সোনার অলঙ্কার ব্যবহার, সম্ভবত সেই চমক।
জানা গিয়েছে, একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার মধ্যস্থতায় পুজো কমিটির কর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে নামজাদা সোনার গয়না প্রস্তুতকারী ওই সংস্থার। সেই মতো জোরকদমে চলছে সমস্ত কাজ। সূত্রের খবর, সোনা দিয়ে দুর্গা প্রতিমার মুকুট, গলার হার, অঙ্গসজ্জা ছাড়াও অন্য দেবদেবীর মুকুটও সোনার অলঙ্কার দিয়ে করা হবে। পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জাতেও সোনার পাত ব্যবহার করা হতে পারে। ১৫ সেপ্টেম্বর গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনবেন আয়োজকরা। সেখানে পুজো কমিটির কর্তাদের পাশাপাশি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সোনার গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থার আধিকারিকদের থাকার কথা রয়েছে।
এ বার পুজোর স্থান পরিবর্তনের পাশাপাশি যদি সত্যিই ১০০ কেজি সোনা ব্যবহার করা হয়, তাহলে ভিড় যে আরও বাড়বে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই কারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সোনার গয়নার নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে পুলিশের কাছে। আয়োজকদের একজন জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে পুলিশের ওয়েবসাইটে আবেদন জানানো হবে। তাঁর দাবি, ‘অনুমতি নেওয়া এবং আইনগত বিষয়গুলি গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থার আধিকারিকরাই দেখছেন।’ পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তা বলেন, ‘আগে আবেদন আসুক। তার পরে সিদ্ধান্ত।’