• সেবক রোডের নার্সিংহোমে আগুন, খবর সংগ্রহে গিয়ে আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম
    এই সময় | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: ভর সন্ধ্যায় সেবক রোডের একটি নার্সিংহোমে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এলাকায়। ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গেলে উপস্থিত কয়েকজন সংবাদকর্মীকে হেনস্থা ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও লাইভ চলাকালীন এক সংবাদকর্মীর মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে নার্সিংহোমের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁরাই আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ।

    আগুনের খবর পেয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক ভাবে আমরা জানতে পেরেছি, বেসমেন্টে থাকা ল্যাবরেটরি থেকে আগুন লেগেছে। তবে রোগী এবং সেখানকার কর্মীদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সকলেই সুরক্ষিত রয়েছেন।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ নার্সিংহোমের বেসমেন্টে আগুন লাগে। মুহূর্তেই কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নীরজ প্রসাদ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘নার্সিংহোমের কয়েকজন কর্মীকে সেই সময় বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে ছুটোছুটি করতে দেখেছি। বাইরের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

    সেবক রোডের এই নার্সিংহোমে ধোঁয়া বের হতে দেখে রাস্তায় লোকজন থমকে দাঁড়িয়ে পড়েন। যানজট তৈরি হয়। আতঙ্ক গ্রাস করে আশপাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। এরপর পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

    জানা গিয়েছে, আগুন লাগার সময় ওই নার্সিংহোমে ৮০ জনের বেশি রোগী ভর্তি ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন ২০০-র বেশি কর্মী। বেসমেন্টে আগুন লাগায় চাইলেও অনেকে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেননি। এর ফলে রোগী ও পরিজনরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। নার্সিংহোমে বিভাস সরকার নামে জলপাইগুড়ি জেলার এক ব্যক্তির আত্মীয় ভর্তি রয়েছেন। বিভাস এসেছিলেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। তিনি বলেন, ‘আত্মীয়কে দেখতে গিয়ে কিছুক্ষণের জন্য বাইরে চা খেতে এসেছিলাম। তখনই আগুন লাগে। কিন্তু গেট বন্ধ করে দেওয়ার পর আর আমাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। সেই সময় কী করব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না।’

    খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই দমকলের দু’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে চলে আসে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই মধ্যে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে গন্ডগোল বাধে নার্সিংহোমের কর্মীদের। সেই সংক্রান্ত একাধিক ভিডিয়ো ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময়)। যদিও মারধরের অভিযোগ মানতে চায়নি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। নার্সিংহোমের এক আধিকারিক জ্যোতির্ময় দাস বলেন, ‘সাড়ে ছ’টার পরে আগুন লেগেছে। আমাদের কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে আগুন নেভাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এরপর পুলিশ, দমকল-সহ অন্যদের চেষ্টায় আগুন নিভে গিয়েছে।’ তাঁর পাশে থাকা অন্য এক আধিকারিক বলেন , ‘কাউকে হেনস্থা করা হয়নি। ধাক্কা লেগে গিয়ে থাকতে পারে।’ এই নার্সিংহোমের একাধিক জায়গার অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কর্তৃপক্ষের কেউ জবাব দেননি।

  • Link to this news (এই সময়)