এই সময়, মালদা: মালদা মেডিক্যাল কলেজে একটানা শিশু মৃত্যুর জেরে অবশেষে সরানো হলো ভাইস প্রিন্সিপাল তথা সুপার প্রসেনজিৎ বরকে। একইসঙ্গে শিশু বিভাগের প্রধান সুষমা সাউকে সরিয়ে তাঁর বদলে আনা হয়েছে কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের বিশ্বনাথ বসুকে। আপাতত ভাইস প্রিন্সিপালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মালদা মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি বিভাগের প্রফেসর গণেশচন্দ্র গাইনকে। অগস্ট মাসে ৮৯টি শিশু মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের চারজনের প্রতিনিধিদল মালদা মেডিক্যাল কলেজে এসে শিশু মৃত্যুর বিষয়টি তদারকি করে দেখেন। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য দপ্তর। এই বদলির অর্ডারের পরিপ্রেক্ষিতে ভাইস প্রিন্সিপাল প্রসেনজিৎ বরের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত শনিবার ৮৯টি শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ এসেছিলেন রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের চারজন প্রতিনিধি। এক মাসে এতগুলি শিশুর মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলে জানিয়ে দেন বিশেষজ্ঞ দলের চেয়ারম্যান প্রলয় আচার্য। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়ে ছিলেন তিনি।
শিশু মৃত্যুর নেপথ্যে একাধিক কারণ উঠে এসেছে। তার মধ্যে অন্যতম অপুষ্টি। এছাড়া জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগজনিত সমস্যা, জন্ডিস এবং কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রতিটি ঘটনার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ও রিপোর্ট বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞ দল। প্রলয় দাবি করেছিলেন, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের কিছু ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি মাতৃমা ও শিশু বিভাগের পরিকাঠামো ও পরিষেবার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু অভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেয় প্রতিনিধিদল। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে রাজ্য সরকার। রিপোর্ট জমা দেওয়ার সাতদিনের মধ্যেই বড় ব্যবস্থা নিল স্বাস্থ্য দপ্তর। এ প্রসঙ্গে মালদা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্ট এসেছে। কিছু রদবদল হয়েছে। তবে এটা স্বাভাবিক বদলি বলেই মনে করা হচ্ছে।’