আগুন বাজারে কপালে চিন্তার ভাঁজ মধ্যবিত্তের। দু’মুঠো ভাত-ডালে যে সন্তুষ্ট থাকবেন, তার উপায়ও নেই! খুচরো বাজারে চড়চড়িয়ে বাড়ছে চালের দাম। গত ১৫ দিনে মধ্যবিত্তের পছন্দের খুচরো বাজারে মিনিকিট থেকে বাঁশকাঠি, দুধের সরের মতো চাল কিলো প্রতি কমপক্ষে ৩ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানির দামে হেঁশেল ঠেলতে নাকাল মধ্যবিত্ত মানুষ থেকে হোটেল ব্যবসায়ীরা। এবার মরার উপর খাঁড়ার ঘা দিচ্ছে চালের দাম। বন্যার কারণে মেদিনীপুর, হুগলি ও বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকার রাইস মিলগুলি উৎপাদন ও যোগান কমিয়ে দেওয়ায় খুচরো বাজারে চালের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়েছে। এরসঙ্গে হাবড়া থেকেও বাজারে সরু চাল যোগান দেওয়া অধিকাংশ মজুতদার খোলা মার্কেটে পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। বস্তুত সেই কারণে গত ১৫ দিনে মধ্যবিত্তের পছন্দের খুচরো বাজারে মিনিকিট থেকে বাঁশকাঠি, দুধের সরের মতো চাল কিলো প্রতি কমপক্ষে ৩ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বর্ণ জাতীয় মোটা চালও কিলো প্রতি তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে বলে স্বীকার করছেন চাল বিক্রেতা থেকে মুদি দোকানদাররা।
কলকাতা ও পাশের জেলার চাল বিক্রেতারা শনিবার অভিযোগ করেন, মজুতদারদের চক্রান্তেই গত তিনমাসে মিনিকিট বা বাঁশকাঠি চালের দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাসমতি চালও কুইন্টাল পিছু হাজার টাকার বেশি বেড়েছে। তবে বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলিতে বন্যার কারণে চাল উৎপাদন হলেও গুদামে প্রচুর পরিমাণে আটকে থাকায় বাজারে আসছে না। তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাজ্যে এবছর উৎপাদন বেশি হলেও ৬০ কেজির ধানের বস্তা গতবছরের তুলনায় ২০০ টাকার বেশি দামে কিনেছেন রাইস মিল মালিকরা। মিলের যন্ত্রাংশের দাম ও জিএসটি সমস্যায় কাঁচামালের খরচ বেশির জন্য চালের দামে প্রভাব পড়ছে বলে মিল মালিকরা দাবি করেন। যদিও ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের দাবি, শীঘ্র খুচরো বাজারে চালের দাম কমবে।