আমেদাবাদ, ৬ সেপ্টম্বর: খুনের ঘটনা পুনর্নির্মাণ করতে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিযুক্তকে। সেই পক্রিয়া শেষ হতেই বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে অভিযুক্তকে দড়ি দিয়ে বেঁধে লাগাতার লাঠিপেটা করল পুলিশ। চলল লাথি, চড়, ঘুষি। সাম্প্রতি এমনই এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। জানা গিয়েছে ঘটনাটি গুজরাতের ভাবনগরের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তি ফয়জল ওরফে খাটকি লাখানি (২০) তার লিভ-ইন সঙ্গী কাজলবেন বারাইয়াকে প্রকাশ্যে খুন করেন। সেই ঘটনার নিরিখেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ৪০ বছরের কাজলবেনের সঙ্গে কয়েক বছর ধরে ফয়জলের একসঙ্গে থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, কাজলের সঙ্গে রবি গোহিল নামক এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই থেকেই কাজলের সঙ্গে ফয়জলের বচসা শুরু হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর ভাবনগর বাসস্ট্যান্ডে সেই বচসা হাতাহাতিতে পরিনত হয়। ফয়জল কাজলবেনকে মাটিতে ফেলে দিয়ে পরপর লাথি ও ঘুষি মারেন। মাথা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত পান ওই মহিলা। তাঁকে আটকাতে গিয়ে রবি গোহিলও আহত হন। বাসস্ট্যান্ডে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ছবি ধরা পড়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কয়েক মিনিট ধরে হামলা চললেও আশপাশে থাকা মানুষ বচসা থামাতে আসেননি বলে দাবি পুলিশের। গুরুতর আহত অবস্থায় কাজলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৪ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ফয়জলকে গ্রেপ্তার করে তদন্তের অংশ হিসেবে নীলামবাগ থানার পুলিশ তাকে বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে দিয়ে ঘটনার সময় কী হয়েছিল এবং কীভাবে হামলা চালানো হয়েছিল, তা পুনর্নির্মাণ করানো হয়। ক্রাইম সিন পুনর্নির্মাণের পরেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা য়ায় ফয়জলকে দড়ি দিয়ে বেঁধে লাগাতার লাঠিচার্জ করতে শুরু করে পুলিশ। একমুহূর্তের জন্যও ছাড় দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি চলে চড়, থাপ্পর, ঘুঁসি, লাথি।
এই ঘটনায় নীলামবাগ থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর ডিপি উনাদকড়ের বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। কাজলবেনের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ফয়জলের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা অভিযুক্তের অতীত অপরাধের রেকর্ডও খতিয়ে দেখছেন। পুলিশের দাবি, এর আগে ডাকাতি ও মারধর-সহ একাধিক মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল।