বেঙ্গালুরুর বেহাল রাস্তায় প্রাণ ওষ্ঠাগত। সম্প্রতি অফিস থেকে নিজের স্কুটারে বাড়ি ফিরছিলেন এক তরুণী। রাস্তায় গর্তে গিয়ে পড়ে তাঁর স্কুটার। গোড়ালি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। পাঁচ দিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে অস্ত্রোপচার করিয়ে, প্রায় ২ লক্ষ টাকা বিল জমা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি পান তিনি। এর পরেই এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে গ্রেটার বেঙ্গালুরু অথরিটির (GBA) দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ঐশানী খান্না নামে ওই তরুণী। তাঁর অনুরোধ, রাস্তাগুলো এ বার সারানো হোক।
GBA, কর্নাটকের মন্ত্রী কৃষ্ণা বি গৌড়াকে ট্যাগ করে ঐশানী এক্স পোস্টে লেখেন, ‘ভারথুরু রোডের একটি গর্তে পড়ে আমার গোড়ালি ভেঙে গিয়েছে। তড়িঘড়ি প্লাস্টিক সার্জারি করাতে হয়েছে। পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। আর তার জন্য আমার খরচ হয়েছে ১.৯৭ লক্ষ টাকা। কাল যে কারও সঙ্গে এই ঘটনা ঘটতে পারে। এ বার রাস্তা ঠিক করুন।’
গত মাসে হোয়াইটফিল্ড-ভার্থুর রোডে নেক্সাস মলের সামনে দিয়ে স্কুটারে ফিরছিলেন ঐশানী। তিনি জানান, একটি কাজের জন্য ভার্থুরের রাস্তা দিয়ে যেতে হয়েছিল। রাস্তার অবস্থা যে খারাপ, সে বিষয়ে তিনি আগে থেকেই জানতেন এবং সেই মতো সাবধানেই স্কুটার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু একটি গর্ত তাঁর চোখ এড়িয়ে যায়। ঐশানীর কথায়, ‘সময়টা দুপুর। তখন বেশ জোরে বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি স্কুটারে ছিলাম এবং একটি গর্ত চোখ এড়িয়ে যায়। এর পরেই আমি ছিটকে গিয়ে পড়ি। এর পরে স্কুটারটা আমার উপরে এসে পড়ে।’
দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালিতে সাত-আটটি গভীর ক্ষত হয়। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে প্লাস্টিক সার্জারি করাতে হয়। ডাক্তাররা জানান, এই সার্জারিতে যদি পুরোপুরি ঠিক না হন, তা হলে দ্বিতীয় বার সার্জারি করাতে হবে। এই ঘটনায় শুধু শারীরিক যন্ত্রণাই নয়, মানসিক ভাবেও বিধ্বস্ত ঐশানী। ঐশানী বলেন, ‘আমি শুধু শারীরিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যাইনি। প্রচণ্ড মানসিক চাপ এবং আর্থিক বোঝাও তৈরি হয়েছে। কারণ এই দুর্ঘটনাটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল।’
বেঙ্গালুরুর নাগরিক পরিকাঠামোর এই অবস্থাকে তিনি ‘দুঃখজনক পরিস্থিতি’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন। বছরের পর বছর শহরের পরিস্থিতির অবনতি নিজের চোখে দেখেছেন। ঐশানীর কথায়, ‘রাস্তা বলে আর কিছু নেই, শুধু গর্ত।’ তিনি সরকারের কাছে শহরের রাস্তা আরও ভালো ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করার আবেদন জানিয়েছেন।
ভারতের ‘সিলিকন ভ্যালি’ বেঙ্গালুরু। দেশ-বিদেশ থেকে আইটির ছেলেমেয়েরা কাজ করতে আসেন। কিন্তু এখানকার নাগরিক পরিকাঠামোর দুরবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়। গর্তে ভরা রাস্তা এবং ট্র্যাফিক ব্যবস্থা নিয়ে বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারও একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছেন যে শহরের রাস্তার গর্তগুলি দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও এই ঘটনা!