সৌমেন রায়চৌধুরী
মধ্যমগ্রাম থেকে প্রায় ৪ হাজার টাকার ইলিশ নিয়ে চম্পট দিয়েছিলেন। রবিবার নিউ ব্যারাকপুরে খোঁজ মিলল সেই মহিলার। নিউ ব্যারাকপুর স্টেশন সংলগ্ন বাজারে ভোলা মাছ কিনছিলেন তিনি। আগেই এ সংক্রান্ত সব খবর ছিল নিউ ব্যারাকপুর বাজার কমিটির কাছে। তাদের তরফে মধ্যমগ্রাম বাজার কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। মধ্যমগ্রাম থেকে মাছ ব্যবসায়ী প্রসেনজিৎ বিশ্বাস-সহ কয়েকজন গিয়ে ওই মহিলাকে মধ্যমগ্রাম বাজারে নিয়ে আসেন। খবর দেওয়া হয় থানায়ও। পুলিশ এসে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। তবে যাওয়ার আগে অবশ্য সঙ্গে থাকা ২৭০০ টাকা দিয়ে যান মধ্যমগ্রাম বাজার কমিটির হাতে।
কেন এই ঘটনা তিনি ঘটিয়েছিলেন? মহিলার দাবি, মাছ খাওয়ার ইচ্ছে হয়েছিল তাঁর। এ দিকে টাকা ছিল না বলেই মাছটি এ ভাবে সরিয়ে নিয়ে যান। যদিও মধ্যমগ্রাম বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকেও টাকা না দিয়ে মাছ-সহ অন্যান্য জিনিস নিয়েছেন এই মহিলা।
গত মঙ্গলবারের ঘটনা। মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি সংলগ্ন অমলেন্দু স্মৃতি ব্যবসায়ী সমিতির বাজারে আসেন ওই মহিলা। বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি। ব্যবসায়ী প্রসেনজিৎ বিশ্বাসকে ভালো, বড়, সুস্বাদু ইলিশ দিতে বলেন। অভিযোগ, দেখেশুনে মাছ পছন্দ করে ওজনও করান। এর পরেই টাকা দিতে গিয়ে বলেন, টাকা সঙ্গে নেই। বাজারের উল্টো দিকে কাঠগোলার দিকে দোকান আছে। কাউকে পাঠালে, দিয়ে দেবেন। এর পরেই প্রসেনজিৎ তাঁর এক ভাইকে ওই মহিলার সঙ্গে পাঠান।
ওই মহিলা বিক্রেতার ওই ভাইকে রিক্সা ডেকে দিতে বলেন। সেই রিক্সাতে মহিলার সঙ্গেই ওঠেন মাছ বিক্রেতার ভাইও। ওই যুবকের কাছ থেকে মহিলা ৩০০ টাকাও চেয়ে নেন। এ দিকে মাঝ পথে হঠাৎই একজনকে ফোন করে মহিলা টাকার কথা বলেন। এর পরে আরও কিছুটা এগোতে একটি দোকান দেখিয়ে রিক্সাচালক ও মাছ ব্যবসায়ীর ভাইকে টাকা নিতে বলে তিনি নেমে যান। এর পরেই মহিলা উধাও। প্রায় ৪ হাজার টাকার ইলিশ, সঙ্গে ৩০০ টাকা হাওয়া!
এর পরেই মহিলার খোঁজে বাজারে বাজারে খবর যায়। এরই মধ্যে রবিবার নিউ ব্যারাকপুরের বাজারে ভোলা মাছের দোকানে ঢোকেন সেই মহিলা। এ দিকে আগেই সিসিটিভির ফুটেজে তাঁর মুখ দেখা গিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরাও অ্যালার্ট। এ দিন তাঁকে দেখতে পেয়েই আটকান নিউ ব্যারাকপুরের ব্যবসায়ীরা।
যে দোকান থেকে ভোলা মাছ কিনতে গিয়েছিলেন, নিউ ব্যারাকপুর বাজারের সেই মাছ বিক্রেতা রাহুল দাস বলেন, ‘প্রায় ১৪ কিলো ওজনের ভোলা মাছ কাটা হয়েছিল আমাদের দোকানে। ওই মহিলা প্রায় ৫ কিলো মাছ নেন। আমাকে বলেন, কেউ নেই যে বাড়িতে মাছ দিয়ে আসবে? আমি আবার বলি, নেই। তবে তাতেই আমার সন্দেহ আরও জোরালো হয়। আমি আগে ওই মহিলার ছবি দেখেছিলাম। এর পরেই একজনকে ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করি, একই দেখতে কি না। সে-ও বলল হ্যাঁ।’ এর পরেই খবর দেওয়া হয় মধ্যমগ্রাম বাজারে।
মহিলার কথাবার্তায় ধন্দ তৈরি হয়েছে। যদিও ব্যবসায়ীদের দাবি, বুদ্ধি করেই সবটা করেছেন তিনি। ৩৭০০ টাকা মাছের দাম, ৩০০ টাকা নগদ নিয়েছিলেন। যদিও এ দিন মাছের দাম বাবদ ২৭০০ টাকা ফিরিয়ে দেন।