পাহাড় থেকে ধস নেমে মিরিকের রংভঙ নদীতে তৈরি হয়েছে এক বিশালাকার কৃত্রিম লেক। বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন। কারণ নতুন করে ধস নেমে যদি কোনও ভাবে লেকের পাড় ভেঙে যায়, তবে মিরিকের নীচের অঞ্চলে হড়পা বানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যার ফলে প্লাবিত হতে পারে নকশালবাড়ি থেকে কার্শিয়াং বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পুরো বিষয়টি খতিয় দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত, জেলাশাসক হরিকৃষ্ণ পানিক্কর-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শনে যান। ইতিমধ্যেই লেক লাগোয়া এলাকা থেকে ৩৩টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের তরফে ওই এলাকায় অর্জুন বাহিনী-সহ রাজ্য ও কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও, নদী বিশেষজ্ঞ ও ইঞ্জিনিয়ারদের বিশেষ দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তাঁরা খতিয়ে দেখছেন লেকের ভিতর আটকে থাকা বিপুল জলরাশি বার করে দেওয়া যায় কি না।
রংভঙ নদীর গিয়ে মিশছে উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত বালাসন নদীতে। কিন্তু রংভঙ নদীর উপর তৈরি হওয়া লেক ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে প্রশাসনের। দিন কয়েক আগে বঙ্গের উপরে সক্রিয় ছিল একটি নিম্নচাপ। সেই নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টিপাত হয় মিরিকে। লাগাতার ভারী বৃষ্টির কারণে রংভঙ নদীর গতিপথে ধস নেমে ওই লেকের সৃষ্টি হয়েছে।
দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত জানিয়েছেন, এই লেক ভেঙে বিপর্যয় ঘটবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। সেই কারণে নদী সংলগ্ন বিপদজনক এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সতর্ক রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। একই সঙ্গে পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
১. প্রশ্ন: কোথায় বিশালাকার কৃত্রিম লেক তৈরি হয়েছে?
উত্তর: মিরিকের রংভঙ নদীতে পাহাড় থেকে ধস নেমে বিশালাকার একটি কৃত্রিম লেক তৈরি হয়েছে।
২. প্রশ্ন: লেকটি কেন প্রশাসনের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে?
উত্তর: নতুন করে ধস নেমে লেকের পাড় ভেঙে গেলে বিপুল জলরাশি নীচের দিকে নেমে হড়পা বানের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
৩. প্রশ্ন: লেক ভেঙে গেলে কোন কোন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?
উত্তর: নকশালবাড়ি থেকে কার্শিয়াং বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৪. প্রশ্ন: কতটি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে?
উত্তর: লেক সংলগ্ন এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই ৩৩টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।