জেলের খাবারে বিষ মিশিয়ে ধীরে ধীরে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউতকে! জেলের সেই বিষাক্ত খাবারের জেরেই আজ তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত? সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সঞ্জয় রাউত। নিজের অসুখের জন্য সরাসরি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে তোপ দাগেন সাংসদ।
শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সঞ্জয় বলেন, ২০২৫ সালে পাকস্থলীর ক্যানসার ধরা পড়েছে তাঁর। তবে এই ক্যানসারের বীজ তাঁর শরীরে ২০২২ সালে ঢুকেছিল বলে মনে করেন তিনি। যে সময় সঞ্জয় জেলবন্দি ছিলেন। সঞ্জয় বলেন, খাবারে বিষ রয়েছে কিনা যাচাই করতে সেই সময় ‘টক্সিসিটি টেস্ট’ করানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন খোদ রাহুল গান্ধী। গোটা ঘটনায় রাজ্য ও কেন্দ্রকে তোপ দেগে সঞ্জয় বলেন, “বর্তমান সরকার এতটাই নিষ্ঠুর যে বিরোধীদের বিরুদ্ধে এরা যে কোনও সীমা পর্যন্ত যেতে পারে। রাহুল গান্ধীও সন্দেহ করে বলেছিলেন, জেলে আমাদের মানুষের সঙ্গে যে কোনও অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে।”
ক্যানসারের সূত্রপাত যে জেল তা নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত ভাবেই সঞ্জয় বলেন, “কারাগারে থাকার সময়েই আমার ক্যানসার হয়েছিল। কারা প্রশাসন সরকার বিরোধী নেতাদের জল ও খাবারে বিষাক্ত কিছু মিশিয়ে থাকতে পারে।” তাঁর আরও দাবি, “বিরোধী দলের যে সব বড় নেতা জেলে গিয়েছেন এবং বেরিয়ে এসেছেন তাঁরা পরবর্তী সময়ে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১ আগস্ট পাত্র চাওল জমি কেলেঙ্কারি মামলায় সঞ্জয় রাউতকে গ্রেপ্তার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মুম্বইয়ের আর্থার রোডের জেলে রাখা হয়েছিল তাঁকে। ১০১ দিন জেলবন্দি থাকার পর ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি। জেলমুক্তির পর সেই সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘নরকতলা স্বর্গ’ (নরকে স্বর্গ) শিরোনামে একটি মারাঠি বইও লিখেছিলেন। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পাকস্থলীর ক্যানসার ধরা পড়ে সঞ্জয়ের। এরপর থেকে কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন চলছে তাঁর।