• উত্তর সিকিমে বিরাট ভূমিধস, অবরুদ্ধ তিস্তা নদী! জারি হল চরম সতর্কতা
    প্রতিদিন | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এবার পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে ফের মহাবিপর্যয়! পাহাড়ের বিরাট অংশ ভয়ংকর শব্দে ধসে নেমে অবরুদ্ধ হল নদী। শনিবার গভীর রাতে উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলার তিস্তা ও চ্যাকুং নদীর সঙ্গমস্থলের কাছের ওই ঘটনার পর সিকিমের নিচের দিকে (ডাউন স্ট্রিম) তিস্তা নদী সংলগ্ন এলাকায় ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। ভূমিধসের পর তিস্তা দিয়ে ঘোলা জল বইতে শুরু করেছে। সিকিম প্রশাসন বাসিন্দাদের নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে দূরে থাকতে এবং নদীর কাছাকাছি না যেতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। রবিবার সকাল থেকে চলছে মাইকে প্রচার।

    মঙ্গন জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শনিবার মাঝরাতে তিস্তা ও চিয়াকুং নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে ‘থেং টানেল’-এর উলটো দিকে নাগা জঙ্গল এলাকায় ‘নাগা-তোসা রোড’-এর নতুন রাস্তা তৈরির জন্য কাটা পাহাড়ের ঢালের বড় অংশ ধসে পড়ে। ওই ঘটনার ফলে নদী দুটির গতিপথ আংশিক অবরুদ্ধ হয়। তিস্তা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তিস্তা ও চ্যাকুং নদীতে জল জমলেও তিস্তা নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে। নদী দুটি আংশিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সঙ্কলং ওপি এবং ফিডাং ওপি-তে জলের স্তর স্বাভাবিক থাকলেও জল ঘোলাটে অবস্থায় রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোকে নদীর জলের স্তরের ওপর কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ কন্ট্রোল রুমকে সতর্ক করা হয়েছে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিচের দিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে। মঙ্গন জেলা প্রশাসন ভূমিধস কবলিত এলাকা এবং তিস্তা নদী তীরবর্তী অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে।

    সিকিম প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভূমিধসে নদীতে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বাঁধ ভেঙে গেলে নিচের দিকে হঠাৎ বিপুল জলরাশি আছড়ে পড়তে পারে। তেমন হলে প্রথমে সিকিমের তিনটেক এলাকা এবং পরবর্তীতে কালিম্পং, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির বিভিন্ন অংশে হড়পা বানের ধাক্কা পৌঁছাতে পারে। পরিস্থিতির উপর নজরদারির জন্য সিকিমে পুলিশ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তিস্তা নদী নিচের দিকে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। জনসাধারণ, শ্রমিক, মৎস্যজীবী এবং গাড়ি চালকদের নদী থেকে দূরে থাকতে, মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদীর ঝুলন্ত সেতু ও পথচারী সেতু পারাপার না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)