• রাষ্ট্রসংঘের নতুন বিশ্ব মানচিত্রকে সমর্থন করেও হুঁশিয়ারি ভারতের, কোথায় আপত্তি দিল্লির?
    প্রতিদিন | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় নতুন বিশ্ব মানচিত্র ‘ইকুয়াল আর্থ’-কে সমর্থন করেছে ভারত। এরপরেও রবিবার বিশেষ বার্তা দিল বিদেশমন্ত্রক। যেখানে নতুন মানচিত্র নিয়ে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নতুন মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখকে দেখাতে হবে ভারতের সরকারি মানচিত্র অনুসারেই। অর্থাৎ এখন যেমনটা রয়েছে, তেমনই থাকবে।

    মানচিত্র বদল সংক্রান্ত ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামের প্রস্তাবটি পেশ করেছিল আফ্রিকার দেশ টোগো। জি-২০ গোষ্ঠীতে আফ্রিকান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘে ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্রকে সমর্থন জানানো— সবক্ষেত্রেই ভারত বারবার আফ্রিকান ইউনিয়নের দেশগুলির সহযোগী হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে। তথাপি নতুন মানচিত্র নিয়ে রবিবার মুখ খুলেছে দিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘‘জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ— এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল-সহ ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড দেশের সরকারি মানচিত্র মেনেই আঁকতে হবে। কোনও ত্রুটিপূর্ণ, ভুল মানচিত্র মেনে নেওয়া হবে না। ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, অপরিবর্তনীয় এবং আপসহীন।’’

    উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত বিশ্ব মানচিত্রের ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিল ১৬৫টি দেশ। এর মধ্যে একমাত্র আমেরিকাই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিলেও বাকি দেশগুলিই প্রস্তাবের সপক্ষে ভোট দিয়েছে। ভোটাভুটি থেকে বিরত ছিল ৬টি দেশ। সব মিলিয়ে ১৬৪-১ ফলাফলে পাশ হয়ে যায় প্রস্তাব। উল্লেখ্য, প্রথাগত ‘মার্কেটর মানচিত্র’ তৈরি হয়েছিল ১৫৬৯ সালে। তৈরি করেছিলেন জেরার্ডাস মার্কেটর। সমুদ্রপথে নাবিকদের যাতে চলাচলে সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। তবে গোলাকার পৃথিবীকে সমতল মানচিত্রে দেখাতে গিয়ে মহাদেশগুলির তুলনামূলক আয়তনের ভারসাম্য লঙ্ঘিত হয় বলেই দাবি। যেমন আফ্রিকাকে গ্রিনল্যান্ডের প্রায় সমান দেখানো হয় এই মানচিত্রে। অথচ বাস্তব ছবিটা একেবারেই আলাদা। গ্রিনল্যান্ডের চেয়েও আফ্রিকা প্রায় ১৪ গুণ বড়। নতুন মানচিত্রে মহাদেশগুলির আয়তনের তুলনামূলক দিকটিকে মাথায় রাখা হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)