মাস দুয়েক আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকাকে অপহরণ-নির্যাতন কাণ্ডে তোলপাড় হয়ে উঠেছিল রাজ্য-রাজনীতি। এবার সেই জেলারই ক্যানিংয়ে সপ্তম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে এক হার্ডওয়ার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই অভিযুক্ত ব্যবসায়ী কমল মন্ডলকে আটক করেছে পুলিশ। ধৃতের বাড়ি ক্যানিং থানার অন্তর্গত তালদি পঞ্চায়েতের কৃষ্ণকালী এলাকায়।
স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, তালদি ষ্টেশন সংলগ্ন জনকল্যাণ মোড় এলাকায় কমল মণ্ডলের হার্ডওয়ার্সের দোকান রয়েছে। অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবারও দোকান খুলেছিলেন ওই ব্যক্তি। বিকাল ৫ টা নাগাদ ওই নাবালিকা ছাত্রী কম্পিউটারের কোচিং ক্লাসে যাচ্ছিল। অভিযোগ, সেই সময়ই ব্যবসায়ী ওই নাবালিকাকে নতুন জলের বোতল দেওয়ার জন্য প্রলোভন দেখান। ফাঁদে পা না দিতেই বিপদ। অভিযোগ, সেই মুহূর্তেই ওই ছাত্রীকে জোর করে দোকানের মধ্যে টেনে নিয়ে যান অভিযুক্ত। অভিযোগ, দোকানেই ছাত্রীর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে যৌন নির্যাতন করেন ওই ব্যবসায়ী। এমনকী, ঘটনার কথা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। নিজেকে বাঁচাতে আচমকা চিৎকার করতে থাকে নির্যাতিতা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তাকে ছেড়ে দেয় অভিযুক্ত। কোনওক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে দোকান থেকে পালিয়ে যায় সে। এরপরই বাড়ি গিয়ে পরিবারকে খোলসা করে সব কথা।
ঘটনা জানতে পেরে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ব্যবসায়ীর দোকানে হাজির হয়। ঘটনার সতত্যা স্বীকার করে অভিযুক্ত। এরপর দু’লাখ টাকার বিনিময়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় ‘তালদি এসটি,এসসি,ওবিসি এন্ড মাইনরিটি সোসাইটি’র দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার পরিবার। জানা গিয়েছে, ঘটনার পরপরই এলাকা থেকে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত। অভিযুক্তের সন্ধান পেতে এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।