রবীন্দ্রনাথের সুইডেন যাত্রার শতবর্ষ মহাসমারোহ, আমন্ত্রণ বিশ্বভারতীকে। প্রধানমন্ত্রীর সুইডেন সফরের পরই তৎপরতার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুইডেন যাত্রার শতবর্ষকে স্মরণীয় করে তুলতে উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সুইডেন। আর সেই ঐতিহাসিক আয়োজনে এবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিশ্বভারতীকে। নভেম্বরে বিশ্বভারতীর প্রতিনিধি দল সুইডেনে যাবে। সেখানে যাবতীয় পরিকল্পনা রবীন্দ্র-আদর্শ, শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতীর ভাবধারাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা পাঠ, আলোচনাসভা, প্রদর্শনী এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন হতে চলেছে। সদ্য প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য নরেন্দ্র মোদির সুইডেন সফরেই এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং তারপরই বিশ্বভারতীর সুইডেন যাত্রা নিশ্চিত হয়েছে বলে খবর।
গত ১৫ মে প্রধানমন্ত্রীর সুইডেন সফরকালে রবীন্দ্রনাথের সুইডেন যাত্রার শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তাব দেয় সেদেশের সরকার। এরপরই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশ্বভারতীকে এই বিশেষ কর্মযজ্ঞে সামিল হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সফরকালেই ঠিক হয় সুইডেনে রবীন্দ্রনাথের যাত্রার শতবর্ষ উদযাপন করা হবে। সুইডেন সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। তারপরেই বিশ্বভারতীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই মর্মে নভেম্বর মাসে বিশ্বভারতী থেকে দুটি প্রতিনিধি দল সুইডেনে যাচ্ছে।”
জানা গিয়েছে, পুরো কর্মসূচির খুঁটিনাটি নিয়েই সুইডেন সরকারকে যাবতীয় প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিশ্বভারতী। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সুইডেনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ১৯২১ সালে প্রথম সুইডেন সফরে যান কবিগুরু। ওই বছর ২৬ মে তাঁর নোবেল পুরস্কার গ্রহণের ভাষণ রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে ১৯২৬ সালের আগস্টে ফের সুইডেনে যান তিনি। সেই সফরে সুইডিশ বেতারে কবিতা পাঠের পাশাপাশি বিভিন্ন আলোচনাতেও অংশ নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কবির সময়ে বিশ্বের ৩৯টি দেশের সঙ্গে বিশ্বভারতীর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান নিয়ে সমঝোতা ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ৮-৯টিতে দাঁড়িয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনা, থাইল্যান্ড, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও সুইডেন-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে রবীন্দ্রনাথের সুইডেন যাত্রার শতবর্ষ উদযাপন শুধু একটি ঐতিহাসিক সফরের স্মরণ নয়, বিশ্বভারতীর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক পরিসরকে নতুন করে বিস্তৃত করারও এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলে মনে করা হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের রাশিয়া যাত্রার শতবর্ষ উপলক্ষে মস্কো শহরে তাঁর আঁকা ছবির প্রদর্শনীও চলছে।